• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

থার্টিফার্স্ব নাইট : একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি


আব্দুল্লাহ ইদরীস ডিসেম্বর ৩১, ২০২১, ০১:১০ পিএম
থার্টিফার্স্ব নাইট : একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি

ঢাকা : দিনের পর রাত আসে রাতের পর দিন আসে। এভাবেই আমাদের জীবন সফরের সময় চলে যাচ্ছে। আমরা দিনদিন আখেরাতমুখী হচ্ছি। পরকালমুখী হচ্ছি। হয়ত আমরা অনুধাবন ও করছি না জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে। দিনদিন হায়াত কমে যাচ্ছে। মানুষের  বয়স বাড়ে না বরং কমে। সময় চলে গেলে কিংবা মাস বা বছর চলে গেলে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ অতিবাহিত সময় আর কখনো ফিরে আসবে না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন সময়ের শপথ করেছেন পবিত্র  কোরআনুল কারিমে সময়ের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ও মানুষকে সময়ের প্রতি সচেতন করার জন্য। মানবজীবনে সময় অতি মূল্যবান। মানুষ সময়কে কাজে লাগিয়ে সফলতার উঁচু শিখরে পৌঁছতে পারে। পক্ষান্তরে যারা সময়কে কাজে লাগায় না তারা সফলতার ছোঁয়াও পায় না। এজন্যই তো বলা হয়, ‘যারা সময়কে কাজে লাগায় সময় তাদেরকে দামি বানিয়ে দেয়’। জান্নাতীরা জান্নাতে পৌঁছার পর দুনিয়ার যে সময় দয়াময় রবের জিকির ব্যতীত কেটেছে তার জন্য আফসোস করবে। আরবের একজন কবি যথার্থ বলেছেন, ‘রাতসমূহের অতিক্রম মানুষকে আনন্দিত করে, উল্লসিত করে, অথচ রাতসমূহের চলে যাওয়া মানে চলে যাওয়া’।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলাম মুসলমানদেরকে আনন্দ উদযাপন করার জন্য নির্ধারিত দু'টি দিবস দিয়েছে। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি  ঈদুল আজহা। আনন্দ উদ্যাপন করার জন্য ভিন্ন ধর্মের  অপসংস্কৃতি আমদানি করার বৈধতা দেয় না ইসলাম। যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি তা হলো, থার্টি ফাস্ট নাইট। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২.০১ মিনিটকে থার্টিফার্স্ট নাইট বলা হয়। যার সাথে মিশে আছে খ্রিস্টানদের ধর্ম ও সংস্কৃতি।

ইসলামে থার্টিফার্স্ব নাইট পালন হলো বিজাতীয় অনুকরণ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপন করতে নিষেধ করছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,  ‘তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুকে যেওনা।(ঝুকলে) জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে।’ (সুরা হুদ, আয়াত-১১৩) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত আবুল আলিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাদের কাজকর্মে সম্মতি প্রকাশ করো না।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির-৪/২০৩)

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরকারক ইকরিমা রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাদের অনুসরণ করো না। তাদের অনুসরণ করো না।’ (তাফসিরে মাযহারী ৪/ ৪২০) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'তাদের সাথে মেলা-মেশা, ওঠা-বসা, ধর্মের প্রতি বিমুখী হওয়ার পরেও তাদের সাথে আন্তরিকতা ও তাদের কাজকর্মের অনুসরণ তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন জালিয়ে দিবে।’ (আহকামুল কুরআন ৫/১০৮)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন কাওমের (সম্প্রদায়ের) অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস -৩৯৮৯) উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হজরত  তিবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘হাদিসটি স্বভাব- রীতি, পোশাক ও নিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যাপক।’ অর্থাৎ যে কেউ কথা ও কাজে, পোশাকে  বা যে-কোনো ভাবে বিজাতীদের অনুসরণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (মিরকাতুল মাফাতীহ-৮/২২২) অন্য আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কাজে সন্তুষ্ট, সে তাদের কাজে অংশীদার।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস-৩৪৭৩) আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে দীনের সহিহ বুঝ দান করুন। দীনের পথে পরিচালিত করুন। সিরাতে মুস্তাকিমের উপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক

 

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System