মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর আসতে পারে আগামী বাজেটে। পদ্মা সেতু নির্মাণে আরোপিত মোবাইল সারচার্জ বাতিলের পাশাপাশি সিম ট্যাক্স কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে দীর্ঘদিন পর মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবায় করের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ২০১৬ সালে মোবাইল সেবায় ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। সেতুটি চালু হলেও এখনো গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত কর দিতে হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি মোবাইল সংযোগ রয়েছে। প্রতিটি ১০০ টাকা রিচার্জে ব্যবহারকারীরা সারচার্জ, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কসহ নানা করের কারণে কার্যত কম পরিমাণ ব্যালেন্স পাচ্ছেন।
এবার বাজেটে নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টে আরোপিত ৩০০ টাকার কর কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। মোবাইল অপারেটররা বলছে, এটি বাস্তবায়িত হলে ১৫ বছরে প্রথমবারের মতো করের বোঝা কমবে।
মোবাইল অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে খাতটি সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সারচার্জ থেকেই আয় হয়েছে প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৮ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরে তিনটি বেসরকারি অপারেটরকে তরঙ্গ নবায়নের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যার ওপর আরও ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে।
অপারেটরদের দাবি, এই অতিরিক্ত করের কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেবা খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে প্রায় দেড় কোটি গ্রাহক বর্তমানে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছেন। ইন্টারনেট সেবাদাতারা এই ভ্যাট শূন্য করার পাশাপাশি রাউটার ও নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতির ওপর কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
আইএসপিএবি বলছে, প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে হলে ভ্যাট কমানো জরুরি।
এদিকে, টেলিকম খাতে করের চাপ কমানোর বিষয়ে সরকারও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর এবং আড়াই হাজারের বেশি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এম







































