• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
বিশ্বকাপ-২০২৩

দেশসেরা ওপেনারকে কেন বিশ্বকাপ দলে রাখা হল না?


ক্রীড়া ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩, ০৯:০৩ পিএম
দেশসেরা ওপেনারকে কেন বিশ্বকাপ দলে রাখা হল না?

ঢাকা: হাজারটা জল্পনা-কল্পনা, আর বহুল অপেক্ষার পর অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত স্কোয়াড। বিশ্বকাপের জন্যে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলের অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত তামিম ইকবালের না থাকা। তবে দিনের মধ্যভাগ থেকেই সেই চমকের বার্তা ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র।

তাই সেটা আর চমক নেই। তবে রাত ৮:১৫ মিনিট নাগাদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফেসবুক পেজে আপলোড হওয়া একটা ক্ষুদে ভিডিও দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সমর্থকরা অন্তত একটু হলেও স্বস্তি খুঁজে নেবেন। কেননা দলে যে জায়গা হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। এই দুই বড় খবর ছাড়াও ওপেনিং নিয়ে সবচেয়ে বড় জুয়াটা খেলল বাংলাদেশ দল। কেননা তামিম ইকবালের পরিবর্তে দলে রাখা হয়নি কাওকে।

ব্যাকআপ হিসেবে দলের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল তরুণ তানজিদ হাসান তামিমের। তবে তিনি সহ বিশ্বকাপের বাংলাদেশের দুই ওপেনারের আরেকজন লিটন কুমার দাস। স্বাভাবিকভাবেই মেহেদী হাসান মিরাজকে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবেই ভাবনায় রেখেছে দল।

ব্যাটসম্যানের রান কেমন, ফর্ম কেমন, বোলারের ছন্দ কেমন, ম্যাচ ধরে ধরে দলের চাহিদার সঙ্গে কে কেমন যাবেন...একটা বিশ্বকাপের দল গড়ার ক্ষেত্রে এসবই তো একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিৎ। কিন্তু সবকিছু স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই হলে দলটার নাম আর বাংলাদেশ কেন!

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ওসব নয়, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের দল গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়েছে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের দ্বন্দ্ব!

এর আগে ২০১১ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে বাংলাদেশ দলে নেয়নি চোটের কারণে, গত বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদও বাদ পড়েছিলেন সে কারণে। কিন্তু এবার বাদ পড়া খেলোয়াড়ের নাম তামিম এবং তাকে দলে না চাওয়া অধিনায়কের নাম সাকিব আর দুজনের অতীতের ‘বন্ধু যখন শত্রু’ সম্পর্কের ইতিহাসই প্রশ্ন তুলে দেয়– ডাল মে কুছ কালো নেই তো!

তামিমের বাদ পড়া আরো নিশ্চিত হয়, যখন শোনা যায়, তাদের আপত্তি সত্ত্বেও তামিমকে দলে নিলে সাকিব নাকি বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন! গতকাল রাতে এ নিয়ে আলোচনা করতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসায়ও গেছেন সাকিব ও হাথুরুসিংহে।

তামিমের না থাকার গুঞ্জনের মধ্যেই দল ছাড়েন বড় ভাই নাফিস ইকবাল। যার কারণে বিসিবি তাকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

এবিষয়ে সুরাহা করতে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আজ বিসিবিতে গেছেন, নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেছেন। মাশরাফি যদিও বলছেন, ব্যক্তিগত কাজেই তিনি গেছেন বিসিবিতে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটবিষয়ক কিছুতে মাশরাফিকে সর্বশেষ এত ‘অ্যাকটিভ’ কবে দেখা গেছে মনে আছে তো? গত জুলাইয়ে তামিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নাটকের শেষ অঙ্কে, তামিমকে ফেরানোর ক্ষণে।

তামিম বাদ পড়ার পিছনে একদিকে যুক্তি, তামিম নিজেই বলেছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট নন। তার চোটও যেকোনো সময় ফিরে আসার ঝুঁকি আছে। সেক্ষেত্রে তাকে বিশ্বকাপের দলে নেয়ার কোনো মানে হয় না।

আরেকদিকে যুক্তিও কম যায় না। তামিম বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পাঁচটি ম্যাচ খেলার কথা আসলেই বলেছেন কি না, বা ম্যাচের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দিয়েছেন কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে। তবে যদি তা বলেও থাকেন, সে ক্ষেত্রেও হিসাবটা এই যে, গ্রুপ পর্বে ৯টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সেখানে পাঁচটি ম্যাচেও যদি তামিম খেলতে পারেন, মন্দ কী? ওপেনিংয়ে তামিমের বিকল্প হয়ে ওঠার মতো সম্ভাবনা তো কেউ গত কিছুদিনে দেখাতে পারেননি! উল্টো লিটন দাসও ফর্ম হারিয়ে বসায় বাংলাদেশের ওপেনিং নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। 

কারও মতে, তামিম আগে থেকে নিজেকে ‘পুরোপুরি ফিট নন’ জানিয়ে একটা অজুহাতের ক্ষেত্র তৈরি করে রাখছেন। যাতে বিশ্বকাপে তিনি ভালো করতে না পারলেও বলতে পারেন, তিনি তো আগেই বলেছিলেন তিনি ফিট নন। আবার সাকিবের নাকি ঘোর সংশয়, তামিম তার অধিনায়কত্বে পুরোটা উজাড় করে দেবেন না।

এআর

Wordbridge School
Link copied!