ফাইল ছবি
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও জায়গা পাবে রাউন্ড অফ ৩২-এ। বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী যদি এখনই গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে যেত, তাহলে সুইডেন, স্কটল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, আলজেরিয়া, প্যারাগুয়ে, কেপ ভার্দে, বেলজিয়াম এবং চেক প্রজাতন্ত্র সেরা আট তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে খেলত।
বিশ্বকাপের নতুন এই ফরম্যাটে তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর জন্যও নকআউট পর্বের দরজা খোলা থাকায় শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়া দলগুলোর পাশাপাশি সেরা আট তৃতীয় দল মিলেই পূরণ করবে শেষ ৩২-এর আসন।
তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর র্যাঙ্কিং নির্ধারণে ফিফা কয়েকটি মানদণ্ড অনুসরণ করে। প্রথমে দেখা হয় অর্জিত পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান, তারপর মোট গোল সংখ্যা। এসব ক্ষেত্রেও সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে ফেয়ার প্লে পয়েন্ট বা কার্ডের হিসাব এবং সবশেষে ফিফা র্যাঙ্কিং।
বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় রয়েছে সুইডেন, স্কটল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, আলজেরিয়া, প্যারাগুয়ে, কেপ ভার্দে, বেলজিয়াম ও চেক প্রজাতন্ত্র। এই আট দলই আপাতত নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার অবস্থানে আছে।
তবে নকআউট পর্বে কার প্রতিপক্ষ কে হবে, সেই সমীকরণ বেশ জটিল। কারণ তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর ম্যাচআপ সরাসরি দলের নামের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না, বরং তারা কোন গ্রুপ থেকে এসেছে তার ওপর নির্ভর করে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এমন একটি তৃতীয় স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে, যে দল ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ অথবা ‘এফ’ গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে। সেখানে দলটির নাম নয়, বরং তার গ্রুপ পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
ফিফা এই ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে একই গ্রুপের দুটি দল নকআউট পর্বের শুরুতেই আবার মুখোমুখি না হয় এবং পুরো নকআউট ছক ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। এই উদ্দেশ্যে ফিফা মোট ৪৯৫টি সম্ভাব্য সমন্বয় তৈরি করেছে, যা টুর্নামেন্টের নিয়মাবলির ‘অ্যানেক্স সি’-তে উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে সেরা আট তৃতীয় দল এসেছে ‘এ’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘এফ’, ‘জি’, ‘এইচ’, ‘জে’ এবং ‘এল’ গ্রুপ থেকে। অন্যদিকে ‘বি’, ‘ই’, ‘আই’ ও ‘কে’ গ্রুপ থেকে কোনো তৃতীয় দল এখনো সেরা আটে জায়গা করে নিতে পারেনি। ফলে এসব গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো নিশ্চিতভাবেই নিজেদের গ্রুপের বাইরের কোনো প্রতিপক্ষ পাবে।
মূল নিয়মটি হলো, কোনো তৃতীয় স্থানধারী দল যেন তার নিজের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপের মুখোমুখি না হয়। এর ফলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হয়। আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল এবং আটটি নির্ধারিত স্লট থাকায় এই পদ্ধতি সবসময় একটি বৈধ সমন্বয় খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ ৩২-এর সম্ভাব্য ম্যাচগুলো হতে পারে:
জার্মানি (‘ই’ গ্রুপের ১ম) × পরাগুয়ে (এ, বি, সি, ডি, এফ গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
ফ্রান্স (‘আই’ গ্রুপের ১ম) × সুইডেন (সি, ডি, এফ, জি, এইচ গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
দক্ষিণ কোরিয়া (‘এ’ গ্রুপের ২য়) × সুইজারল্যান্ড (‘বি’ গ্রুপের ২য়)
নেদারল্যান্ডস (‘এফ’ গ্রুপের ১ম) × মরক্কো (‘সি’ গ্রুপের ২য়)
পর্তুগাল (‘কে’ গ্রুপের ২য়) × ঘানা (‘এল’ গ্রুপের ২য়)
স্পেন (‘এইচ’ গ্রুপের ১ম) × অস্ট্রিয়া (‘জে’ গ্রুপের ২য়)
যুক্তরাষ্ট্র (‘ডি’ গ্রুপের ১ম) × আলজেরিয়া (বি, ই, এফ, আই, জে গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
মিশর (‘জি’ গ্রুপের ১ম) × চেক প্রজাতন্ত্র (এ, ই, এইচ, আই, জে গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
ব্রাজিল (‘সি’ গ্রুপের ১ম) × জাপান (‘এফ’ গ্রুপের ২য়)
আইভরি কোস্ট (‘ই’ গ্রুপের ২য়) × নরওয়ে (‘আই’ গ্রুপের ২য়)
মেক্সিকো (‘এ’ গ্রুপের ১ম) × স্কটল্যান্ড (সি, ই, এফ, এইচ, আই গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
ইংল্যান্ড (‘এল’ গ্রুপের ১ম) × কেপ ভার্দে (ই, এইচ, আই, জে, কে গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
আর্জেন্টিনা (‘জে’ গ্রুপের ১ম) × উরুগুয়ে (‘এইচ’ গ্রুপের ২য়)
অস্ট্রেলিয়া (‘ডি’ গ্রুপের ২য়) × ইরান (‘জি’ গ্রুপের ২য়)
কানাডা (‘বি’ গ্রুপের ১ম) × বেলজিয়াম (ই, এফ, জি, আই, জে গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
কলম্বিয়া (‘কে’ গ্রুপের ১ম) × ক্রোয়েশিয়া (ডি, ই, আই, জে, এল গ্রুপের মধ্যে থেকে আসা সেরা ৩য়)
তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর ফলাফল বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নকআউট পর্বের এই সম্ভাব্য ছকেও পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে।
এসএইচ
























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)














