ফাইল ছবি
ঢাকা: আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র মতে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা প্রথম ধাপে বেশি সুবিধা পেতে পারেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় না থাকলেও আলোচনায় এসেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাজেট ঘোষণার আলোকে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, আগে পরিকল্পনা ছিল নতুন স্কেলে মূল বেতনের যে বৃদ্ধি হবে, তার ৫০ শতাংশ করে প্রথম দুই অর্থবছরে এবং বাকি অংশ ভাতাসহ তৃতীয় বছরে দেওয়া হবে। তবে এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন বৃদ্ধির অংশের ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির অংশের ৬০ শতাংশ পেতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। অপরদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত রয়েছেন ১২ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে সরকারের গঠিত সচিব কমিটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ ও বিপুল অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা।
পিএস







































