নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি-জমিয়তে উলামায়ের জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণা শিডিউলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রচারণার নামে মনগড়া পরিকল্পনা, মিথ্যা প্রচার এবং সংগঠনের নাম অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি প্রচারিত একটি নির্বাচনী শিডিউলে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার ঘোষণা দেওয়া হয়। শিডিউল অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টায় শাহ ফতেহউল্লাহ কনভেনশন হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের নাম স্পষ্টভাবে থাকায় অনেকেই ধরে নেন, সভাটিতে ওই প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা যুক্ত থাকবেন।
তবে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি, এমনকি অনুমতিও নেওয়া হয়নি। শিডিউলে তাদের নাম ব্যবহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করছে সংগঠনটি।
ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল ইসলাম সহিদ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের না জানিয়েই সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারির কথিত সাংবাদিক মতবিনিময় সভা সম্পর্কে কাসেমীর পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনী শিডিউলে ইচ্ছেমতো একটি সাংবাদিক সংগঠনের নাম যুক্ত করা কতটা যুক্তিসংগত, তা জনগণই বিচার করবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় প্রেস ক্লাব।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক সিদ্দিকী আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো স্পষ্টতই অপরাধের শামিল। কোনো সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো নাম যুক্ত করে ভোটের মাঠে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কাসেমীর পক্ষ থেকে তৈরি করা এ শিডিউলকে ভুয়া উল্লেখ করে তিনি এর নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সাংবাদিকের মতে, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে একটি স্বীকৃত প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো শুধু অনৈতিক নয়, এটি গণমাধ্যমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার একটি নগ্ন চেষ্টা।
ভোটের মাঠে নেমে যদি সত্য আড়াল করে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুফতি মনির হোসেন কাসেমী কিংবা তার নির্বাচনী শিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাংবাদিক সমাজে তীব্র আলোচনা চলছে।
নির্বাচনী মাঠ যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে প্রচারণার নামে দায়িত্বহীনতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির বাস্তব চিত্র। প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী প্রচারণার নামে এ ধরনের অনিয়ম আর কতদূর চলবে।
এসএইচ