• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯

১ মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ  


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি এপ্রিল ২১, ২০২২, ০৭:৫২ পিএম
১ মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ  

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। ছবি : রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটি : আগামী ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলাধার রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। 

হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে প্রতিবছরের মতো এবারো তিন মাস সব ধরনের মাছ শিকার, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। এসময়ে বন্ধ থাকবে স্থানীয় পর্যায়ের বরফকল, নিয়মিত হ্রদ টহলে থাকবে বিএফডিসির মনিটরিং টিম।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি জেলাপ্রশাসন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। 

বৈঠকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙ্গামাটি নদীউপকেন্দ্র প্রধান মো. আজহার আলী, জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতা উদয়ন বড়ুয়া, মাহফুজুর রহমানসহ খাতসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল জেলেদেরকে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া অবৈধ উপায়ে মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নৌপুলিশ মোতায়েন করা হবে। হ্রদে অবৈধ উপায়ে মাছ শিকারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএফডিসি রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এসময় হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা অবমুক্ত করে থাকে বিএফডিসি। এ বছরও হ্রদে কার্প জাতীয় পোনা অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে, গত বছর কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে তিন মাসের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা এক মাস বেড়ে চার মাস হয়েছিল। তবে এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও হ্রদের পানির বাড়লে নির্ধারিত সময়ে মাছ আহরণ শুরু করা যাবে বলে প্রত্যাশা খাতসংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৬২ সালে বাঁধ নির্মাণ শেষে রাঙ্গামাটির বিশাল এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ। এই হ্রদই বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বদ্ধজলাশয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ। আয়তন প্রায় ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর। যা বাংলাদেশের পুকুরের মোট জলাশয়ের প্রায় ৩২ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ মোট জলাশয়ের প্রায় ১৯ শতাংশ। 

১৯৬১ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এ হ্রদের সৃষ্টি হলেও এটি রাঙ্গামাটিতে মৎস্য উৎপাদন ও স্থানীয় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। 

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System