• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নাটোর শহরের রোড ডিভাইডারে বসন্তের আগুনরঙা হাসি


নাটোর প্রতিনিধি মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
নাটোর শহরের রোড ডিভাইডারে বসন্তের আগুনরঙা হাসি

বসন্তের আগমনী বার্তায় রাঙা পলাশে সেজে উঠেছে নাটোর শহর। শহরের প্রধান সড়কগুলোর রোড ডিভাইডারে ফুটে থাকা আগুনরঙা পলাশ ফুল পথচারী ও যানবাহন আরোহীদের নজর কাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রাকৃতিক এই রঙিন সৌন্দর্য যেন ব্যস্ত নগরজীবনে এনে দিয়েছে এক টুকরো প্রশান্তি ও নান্দনিকতার ছোঁয়া।

শহরের কানাইখালী, মাদ্রাসা মোড়, স্টেশন বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে সারি সারি পলাশ গাছ এখন ফুলে ভরে উঠেছে। লাল-কমলা রঙের এই ফুলে পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। অনেকেই থেমে ছবি তুলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ‘রাঙা নাটোর’-এর দৃশ্য।

এনএস কলেজের শিক্ষার্থী রহি, শাপলা ও জহিরুল হক বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাই। আগে ডিভাইডারগুলো সাধারণই লাগত, এখন পলাশ ফুলে ভরে ওঠায় মনে হয় যেন প্রকৃতির মাঝ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এতে শহরের সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি মনও ভালো হয়ে যায়।”

নাটোর মহারাজ স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মাসুমা আক্তার রুপা বলেন, “পলাশ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। শহরের রাস্তায় এমন ফুলের সমারোহ শিক্ষার্থীদেরও প্রকৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও প্রশংসনীয়।”

প্রভাষক ও সংস্কৃতিকর্মী ফরাজী আহমেদ ভাবনা বলেন, “পলাশ বাঙালির বসন্ত ও ভালোবাসার প্রতীক। শহরের রোড ডিভাইডারে এই ফুলের উপস্থিতি নাটোরকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে। চাইলে এটিকে কেন্দ্র করে বসন্ত উৎসব বা সাংস্কৃতিক আয়োজনও করা যেতে পারে।”

এনএস কলেজের প্রভাষক সোহেলী বেগম বলেন, “নগরায়নের ভিড়ে সবুজ ও ফুলের গাছ লাগানো খুবই জরুরি। পলাশের মতো দেশীয় গাছ রোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পাখি-পতঙ্গের আবাসস্থল তৈরি করে।”

কৃষিবিদ কিশোয়ান হোসেন বলেন, “পলাশ গাছ তুলনামূলক কম যত্নেই বেড়ে ওঠে। এটি খরাপ্রবণ এলাকাতেও টিকে থাকতে পারে। তাই শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অলক মৈত্রী বলেন, “শহরের সৌন্দর্য মানে শুধু অবকাঠামো নয়, প্রাকৃতিক উপাদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পলাশ ফুলে সজ্জিত রোড ডিভাইডার নাটোরকে নান্দনিক শহর হিসেবে তুলে ধরছে।”

নাটোর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, “দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর বিষয়ে আমরা সচেতন। পলাশ গাছ পরিবেশের জন্য উপকারী এবং সহজে বেড়ে ওঠে। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফুল ও ফলজ গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ সুরক্ষা ও নগর সৌন্দর্য দুটোই নিশ্চিত হবে।

নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “নাটোরকে সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। রোড ডিভাইডারে পলাশ ফুল তারই একটি অংশ। নাগরিকদের সহযোগিতায় এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে চাই।”
বসন্তের এই রাঙা আবেশে নাটোর এখন যেন এক নতুন রূপে ধরা দিয়েছে। রোড ডিভাইডারের পলাশ ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং ব্যস্ত শহরবাসীর মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে স্বস্তি ও ভালোবাসার বার্তা।

এম

Wordbridge School
Link copied!