• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বড় সুসংবাদ


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বড় সুসংবাদ

ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এতটাই বেড়েছে যে ৪০ শতাংশের বেশি আবেদনকারীই প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। টানা দুই মাস ধরে ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই হার বাড়তে থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে আবেদনকারী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে।

অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স বা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মার্চ মাসে বিদেশ থেকে জমা দেওয়া উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনগুলোর মাত্র ৫৯ শতাংশ অনুমোদিত হয়েছে। মাসভিত্তিক অনুমোদনের এই হার দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর আগের মাসের তুলনায় অনুমোদনের হার আরও ৮ শতাংশ কমেছে। 

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার ৪৯ শতাংশ এবং নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য তা মাত্র ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

ভিসা অনুমোদনের হার হঠাৎ এত দ্রুত কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসকরা অনেকটা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। কোনো উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেন এত বিপুল হারে আবেদন নাকচ করা হচ্ছে, তা নিয়ে খোদ দেশটির শিক্ষাবিদরাই প্রশ্ন তুলছেন। 

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিওউড জানান, সরকার বর্তমানে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়ন শুরু করেছে। নিয়মানুযায়ী এক বছরের খরচ বহনের সক্ষমতা দেখালেই যথেষ্ট হওয়ার কথা থাকলেও এখন পুরো শিক্ষাকালের ব্যয় বহনের সামর্থ্য যাচাই করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা মূলত নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করতেন। কিন্তু বর্তমানে বিদেশি ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক প্রবণতা। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নজরদারি করা হচ্ছে। 

নাভিটাসের চিফ ইনসাইটস অফিসার জন চিউ মনে করেন, ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না করায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বদলে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। কারণ একবার অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশে আবেদন করার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব এবং ভিসা প্রাপ্তিতে এমন অনিশ্চয়তা থাকলে প্রকৃত মেধাবীরা নিরুৎসাহিত হবেন। অন্যদিকে যারা পড়াশোনার আড়ালে কর্মসংস্থানকে লক্ষ্য করে ভিসা পেতে চায়, তারা হয়তো ঝুঁকি নিয়ে আবেদন চালিয়ে যাবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চমানের শিক্ষা খাত শেষ পর্যন্ত গুণগত শিক্ষার্থী হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এসএইচ 

প্রবাসে বাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!