• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি মে ১, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল

ছবি : প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্মাণাধীন বিশেষায়িত হার্ট হাসপাতাল প্রকল্পটি অর্থ সংকটের কারণে ধীর গতিতে এগোচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে ভৌত অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মোট ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শর্ত অনুযায়ী যৌথ ব্যাংক হিসাবে প্রত্যাশিত অর্থ জমা না হওয়ায় ক্রয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদফতর ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হৃদরোগ হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধাও রাখা হবে।

এ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি মাত্র প্রায় ২৬ শতাংশ হলেও ভৌত অগ্রগতি ৬৫ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে পৌঁছেছে। পাঁচতলা ভিত্তির ওপর নির্মিত হাসপাতাল ভবনের মূল কাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে টাইলস বসানো, প্লাস্টার, গ্রিল সংযোজনসহ শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। লিফট স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রত্যাশী সংস্থার নিজস্ব অর্থ জমা না হওয়া। নির্ধারিত অংশ যৌথ হিসাবে জমা না দেওয়ায় ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এছাড়া ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে দেরি হওয়ায় আর্থিক অগ্রগতি কম দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের আওতায় মোট পাঁচটি ক্রয় প্যাকেজ থাকলেও এখন পর্যন্ত কেবল সিভিল কনস্ট্রাকশন প্যাকেজ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আসবাবপত্র, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, অফিস সরঞ্জাম এবং অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এদিকে, আইএমইডির পরিদর্শন দল প্রকল্পে কিছু প্রশাসনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিয়মিত সভা আয়োজন, ভেরিয়েশন অর্ডার যাচাই এবং পূর্ববর্তী সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

স্থানীয়দের মতে, জেলায় উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় রোগীদের রাজশাহী বা ঢাকায় যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় রোগীর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বিশেষায়িত হার্ট হাসপাতালের অভাব দীর্ঘদিনের। ফলে সামান্য হৃদরোগের সমস্যাতেও রোগীদের রাজশাহী বা ঢাকায় ছুটতে হয়, যা সময় ও খরচ দুই দিক থেকেই কষ্টকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘হার্টের রোগ হলে দ্রুত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখানে সেই ব্যবস্থা না থাকায় রোগী নিয়ে দূরে যেতে হয়। অনেক সময় পথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এই হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে মানুষের অনেক উপকার হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ আলী বলেন, ‘এখানে একটি আধুনিক হার্ট হাসপাতাল হলে মানুষ দ্রুত চিকিৎসা পেত। দরিদ্রদের জন্য এটি খুবই জরুরি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি আসলাম কবির বলেন, “জেলায় ইতোমধ্যে ডায়াবেটিস ও চক্ষু হাসপাতাল রয়েছে। হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চালু হলে স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে দেরি হলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যৌথ হিসাবে অর্থ জমা নিশ্চিত হলে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হৃদরোগ চিকিৎসায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

পিএস

Link copied!