• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে অটোচালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ 


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে অটোচালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ 

ছবি : প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর: পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে গভীর রাতে ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল অটোরিকশা চালক ফরহাদ হোসেনকে (৩০)। কিন্তু পাওনা টাকা আর মেলেনি, পরদিন সকালে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হয় তার চোখ উপড়ানো নিথর দেহ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফরহাদ হত্যার ঘটনায় জড়িত মোট ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. শাকিল, মাহফুজুল ইসলাম মামুন ও মো. সজল। এদের মধ্যে শাকিল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং সজল একই এলাকার হাফিজ উল্যাহর ছেলে। গ্রেপ্তার অন্যজন মামুন ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার ছাদেকপুর এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে।

নিহত ফরহাদ হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। 

নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার জানান, পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে এক ব্যক্তি ফরহাদকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। এরপর ফরহাদ আর রাতে বাড়িতে ফেরেননি। ভোরে তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফসলি ক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্বজনরা। নার্গিসের অভিযোগ, টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করেই ফরহাদকে হত্যা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তার ডান চোখ উপড়ে ফেলেছে। 

পুলিশ জানায়, পূর্ব চরমনসা এলাকায় ফরহাদকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় ফরহাদের বাবা দিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পিএস

Link copied!