ফাইল ছবি
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, অথচ এর মধ্যেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে নকআউট পর্বের জটিল সমীকরণ ও হিসাব-নিকাশ। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ঘিরে এই আলোচনা ও উন্মাদনা একটু বেশিই। কারণ, গ্রুপ ‘সি’-তে সেলেসাওদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপার মঞ্চে পৌঁছানোর সম্ভাব্য যাত্রাপথ।
আজ রাতে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। এই ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ধারিত হবে ব্রাজিলের নকআউটের ভাগ্য। ম্যাচটি জিতলে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, ড্র করলে রানার্সআপ আর কোনো কারণে হেরে গেলে তৃতীয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ কিংবা সেরা তৃতীয় দল-এই তিনটি ভিন্ন অবস্থান ব্রাজিলের সামনে খুলে দিতে পারে তিন রকমের নকআউট রোডম্যাপ। কোনো পথে অপেক্ষা করছে তুলনামূলক সহজ সমীকরণ, আবার কোনো পথ শুরু থেকেই সেলেসাওদের দাঁড় করিয়ে দিতে পারে ইউরোপের পরাশক্তিদের কঠিন পরীক্ষার সামনে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে: সেমিতে দেখা হতে পারে স্পেনের সঙ্গে
ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে, তবে নকআউটের প্রথম ধাপে, অর্থাৎ রাউন্ড অব ৩২-এ আগামী ৩০ জুন টেক্সাসের হিউস্টনে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপের মুখোমুখি হবে তারা। এই পজিশনের জন্য বর্তমানে লড়াই করছে জাপান ও সুইডেন। এই বাধা টপকে শেষ ষোলোয় উঠতে পারলে ৫ জুলাই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পেতে পারে নরওয়ে কিংবা আইভরি কোস্টকে, যেখানে নরওয়ের আসার সম্ভাবনাই বেশি। এরপর ১০ জুলাই কোয়ার্টার-ফাইনালে দেখা হতে পারে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া বা সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোনো একটি দলের সঙ্গে, যেখানে জার্মানির আসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে সেমি-ফাইনালে। আগামী ১৫ জুলাই সব হিসাব মিলে গেলে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে, যেখানে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে স্পেন, পর্তুগাল, ঘানা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দল। সব বাধা পেরোতে পারলে ২০ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে স্বপ্নের ফাইনাল।
রানার্সআপ হলে: শুরুতেই নেদারল্যান্ডস, কোয়ার্টারে ফ্রান্স-জার্মানি
কোনো কারণে ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে এবং রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে, তবে সমীকরণ বদলে যাবে পুরোপুরি। সে ক্ষেত্রে রাউন্ড অব ৩২-এ আগামী ১ জুলাই মেক্সিকোর গুয়াদালুপে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস। নকআউটের প্রথম ম্যাচেই ডাচদের মতো প্রতিপক্ষ যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা টপকাতে পারলে ৪ জুলাই হিউস্টনে শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হতে পারে মরক্কো অথবা দক্ষিণ কোরিয়া। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে পথ আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১০ জুলাই ফক্সবরোতে ব্রাজিলের সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পারে ফ্রান্স অথবা জার্মানি। এরপর ১৫ জুলাই আরলিংটনে সেমি-ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আসতে পারে ইংল্যান্ড কিংবা ফ্রান্স।
সেরা তৃতীয় হলে: কোয়ার্টারেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা
৪৮ দলের এই নতুন সংস্করণের বিশ্বকাপে গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। ব্রাজিল যদি গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করে এবং সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নেয়, তবে তাদের নকআউট পথ পুরোপুরি নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। এই জটিল পরিস্থিতিতে ১ বা ২ জুলাই ডালাস কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো অথবা নেদারল্যান্ডস। শেষ ষোলোয় অপেক্ষা করতে পারে আরও বড় পরীক্ষা। ৬ জুলাই ভ্যানকুভার বা সিয়াটলে ব্রাজিলের সামনে আসতে পারে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম কিংবা স্পেন। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে প্রতিপক্ষের তালিকা আরও ভয়ংকর। ১০ বা ১১ জুলাই কানসাস সিটি কিংবা মায়ামিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল। আর সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে পারলে ১৬ জুলাই আটলান্টায় প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড কিংবা পর্তুগাল।
কাগজে-কলমে সব হিসাব মেলালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটাই ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এবং স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে। যদিও শেষ ষোলোর পর থেকে জার্মানি বা স্পেনের মতো দল সামনে আসতে পারে, তবুও রানার্সআপ বা তৃতীয় হওয়ার পথের তুলনায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা তুলনামূলক সহজ হবে। এখন দেখার বিষয়, আজ মাঠের লড়াইয়ে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিল কোন রোডম্যাপে নিজের নাম লেখায়।
এসএইচ

























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)













-6a32f19d55b2f-20260617232139.jpg)