ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে ধান হাটার পাশে অবস্থিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘টপটেন জেনারেল হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম প্রসব ব্যথা নিয়ে টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তান জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, জন্মের পর নবজাতকটি সুস্থ ছিল। তবে জন্মের দুইদিন পর হঠাৎ করেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে।
এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নবজাতকটিকে চিকিৎসক ডা. আশীষ দেবনাথ লিজনের চেম্বারে নেওয়া হলে তিনি দ্রুত সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহত নবজাতকের নানি জানান, “সন্তান জন্মের পর শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দুইদিন পর হঠাৎ তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। আমরা হাসপাতালে জানালে তারা বাইরে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে। পরে ডা. আশীষের কাছে নিলে তিনি বলেন, শিশুটির অবস্থা গুরুতর, দ্রুত ইমারজেন্সিতে নিতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে টপটেন জেনারেল হাসপাতালের মালিক সাকিব সোহেল বলেন, “আমাদের হাসপাতালে ফেরদৌসীর সিজার সম্পন্ন হয় এবং নবজাতকটি জন্মের পর সুস্থই ছিল। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা পরিবারের সদস্যদের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলি। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারি।”
চিকিৎসক ডা. আশীষ দেবনাথ লিজন বলেন, “শিশুটিকে আমার কাছে আনার আগেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিংহ রায় জানান, ঘটনার পর উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. চঞ্চল গোলদারের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাকিল সরোয়ার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পিএস







































