ছবি প্রতিনিধি
পাবনা পৌর সদরের গোপালপুর আইবি রোডের একটি বাসা থেকে আজমিরা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় গৃহবধূর পা মাটিতে লেগে থাকায় তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
মৃত আজমিরা খাতুন পাবনা পৌর সদরের ২ নম্বর গোপালপুর আইবি রোড মহল্লার আরিফ হোসেনের স্ত্রী এবং সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখেই দরজা বন্ধ করে দেন আজমিরা। এরপর স্বামী অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তিনি সারারাত অন্য একটি কক্ষে ঘুমান। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে পরিবারের লোকজন পুনরায় দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আজমিরার স্বামী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ নিচে নামানো হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৃহবধূ আজমিরার মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে। কারণ লাশ উদ্ধারের সময় তাঁর পা মাটিতে ছোঁয়ানো ছিল। এভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না কিংবা ফাঁস লাগলে মারা যাওয়ার কথা নয়। এ ছাড়া ওই বাসার জানালায় কবজা সিস্টেম থাকায় সেখান দিয়ে অনায়াসে বাইরে যাওয়া-আসা করা যায়। আজমিরার স্বামী আরিফ একজন স্কুলশিক্ষক। তাঁর আগের একটি স্ত্রী ছিল, আজমিরা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁকে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আজমিরার স্বামী আরিফ হোসেন বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এখন আমি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।
আজমিরার বাবা আক্কাস প্রামাণিক বলেন, গত রাতে মেয়ে ও জামাতার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। রাতেই জামাতা ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে সকালে ফোন করে জামাতা আবার বলেন, আপনার মেয়ে ঘরের দরজা খুলছে না, আপনি আসেন। আমি জানতে চাইলাম তুমি কোথায় ছিলে? সে বলল, আরেক রুমে ছিলাম। পরে আমি গিয়ে বাসার দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। কীভাবে মারা গেল বুঝতে পারছি না। প্রথমে শিশু নাতির কথা ভেবে আপস করার চিন্তা করছিলাম। কিন্তু পুলিশ যেহেতু বলছে ময়নাতদন্ত করতেই হবে, তাই আমরাও এখন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এই ঘটনায় মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এসএইচ







































