• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

তিন চাকার যানের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি


বরিশাল অফিস জুন ১৮, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
তিন চাকার যানের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ফাইল ছবি

বরিশাল নগরীতে হলুদ অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রাসহ তিন চাকার যানের ভাড়া হঠাৎ ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এ পরিস্থিতিতে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে নগরীর বিভিন্ন রুটে চালকেরা নিজেদের সিদ্ধান্তে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। আগে চৌমাথা থেকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৫ টাকা, বর্তমানে তা ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে লঞ্চঘাট থেকে চৌমাথা রুটে ১৫ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।

চালকদের দাবি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাটারি চার্জিং খরচ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা ভাড়া সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছেন।

হলুদ অটোরিকশাচালক রজব আলী বলেন, তাঁদের কোনো সমিতি নেই। তাই সবাই মিলে আলোচনা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে গাড়ির সামনে নতুন ভাড়ার চার্ট টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে যাত্রীরা বলছেন, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার বলেন, প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চালকেরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রী, চালক এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয় প্রয়োজন। একতরফাভাবে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি এসব যানবাহনের বৈধতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার ও সিএনজির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত ভাড়া কাঠামো এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার ও সিএনজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বৈধ যানবাহনকে লাইসেন্স প্রদান, চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, রুটভিত্তিক ভাড়ার চার্ট প্রণয়ন, অযৌক্তিক ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু এবং আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, নগরীতে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। অতীতে এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে শিক্ষার্থী, পথচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিসির নাম ব্যবহার করে যে ভাড়ার তালিকা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। নগরীর অটোরিকশা ও সিএনজির ভাড়া নির্ধারণে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাড়ানো ভাড়া প্রত্যাহার এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এসএইচ 

Link copied!