ফাইল ছবি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দিনে-দুপুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ। গতকাল পৌর শহরের টিনহাটা এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের উত্যক্ত ও প্রতিশোধের এক ভয়াবহ গল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক অন্তর মজুমদার আগে একই বাড়িতে ভাড়া থাকত। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সে ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী সায়মাকে প্রায়ই উত্যক্ত করত। বাড়িতে মাদক সেবনের কারণে একপর্যায়ে পাড়াবাসীর চাপে সে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে দলবল নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সায়মার পরিবার সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তর হুমকি দিয়ে বিদায় হয়।
ঘটনার দিন সকালে পানির মিস্ত্রি সেজে কৌশলে বাসায় প্রবেশ করে অন্তর। ভেতরে ঢুকেই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সায়মার ওপর চড়াও হয়। মেয়েকে বাঁচাতে মা এবং অন্য দুই বোন এগিয়ে আসলে মদ্যপ অন্তর সবাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই মেয়ে প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মেজো বোন ইকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তরের এই বেপরোয়া আচরণের পেছনে স্থানীয় কিছু আড্ডা ও মাদকের আস্তানা দায়ী ছিল। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক অন্তর মজুমদারকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনার সঠিক তদন্ত ও নেপথ্যের মদদদাতাদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এসএইচ





























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)









