• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে-মানডে ক্লোজ করতাম’, পুলিশকে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
‘যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে-মানডে ক্লোজ করতাম’, পুলিশকে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

সাভারে ধারাবাহিক ছয় হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ংকর ও বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত অবস্থায় দেখলেই তাদের হত্যা করতেন, যাকে তিনি নিজস্ব ভাষায় ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে–মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করতেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট মানসিক রোগী নন, তবে দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির কারণে তিনি গুরুতর মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। “তার কাছে মানুষ হত্যা একপ্রকার নেশায় পরিণত হয়েছিল। খুনকে সে স্বাভাবিক কাজ হিসেবেই দেখত,” বলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। পরিচয় গোপন রাখতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার স্থায়ী ঠিকানাও সাভারে নয়। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও অপরাধ করার পর আত্মগোপনে সাভারে এসে ভবঘুরে জীবন বেছে নেন তিনি। শিগগিরই তার প্রকৃত পরিচয় উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, সাভারে থাকার সময় তিনি অধিকাংশ রাত কাটাতেন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই নিজের আস্তানা গড়ে তোলেন। পরবর্তী পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে একের পর এক পাঁচটি লাশ উদ্ধার হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর পর থেকেই ভবনটি পুলিশি নজরদারিতে ছিল।

পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ এক কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী নিজেকে তার বোন বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। রোববার দুপুরে পোড়া লাশ উদ্ধার হয়।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ আরও জানায়, দিনের বেলায় সম্রাটকে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও গভীর রাতে তাকে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও বিভিন্ন পদচারী সেতুতে অবস্থান করতে দেখা যেত। সেখানে থাকা ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসতেন। যারা তার প্রলোভনে সেখানে যেতেন, তারাই পরবর্তীতে খুনের শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, “খুনি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এখন নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। শুধু এই ছয়টি নয়, তার সঙ্গে আরও কোনো অপরাধ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশের ধারণা, এই সিরিয়াল কিলারের অপরাধের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

এম

Wordbridge School
Link copied!