ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ তমহা সিকিউরিটিজের (ডিএসই ট্রেক নম্বর-৮১) সমুদয় সম্পত্তি বিক্রয়পূর্বক অর্থ ডিএসইর কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিকিউরিটিজ কোম্পানিটির ডিরেক্টরদের মধ্যে চুক্তির দলিল অনুযায়ি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকগণকে আগামী ৩১ মে'র মধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ডিএসই কাছে এই অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে।
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে তামহা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের গত ২৩ জানুয়ারি দেয়া এক চিঠির পরিপেক্ষিতে সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড উক্ত জমাকৃত অর্থ হতে বিনিয়োগকারীদের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিষ্পত্তি করবে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে ডিএসই।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সকল পরিচালক এবং ডিএসইকে নির্দেশ প্রদান করেছে বিএসইসি।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি তামহা সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ‘তামহা সিকিউরিটিজের মালিক ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার বিক্রি করে দিলে ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর বিএসইসি সিকিউরিটিজ হাউজটির লেনদেন স্থগিত করে দেয়। পরে সিকিউরিটিজটির বিনিয়োগকারীরা সিডিবিএলে (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) যোগাযোগ করে জানতে পারে, তাদের হিসাবে কোনো শেয়ার নেই।
তারা বলেন, তামহা কর্তৃপক্ষ দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচার তথ্য তাদের এসএমএস করে ও মেইলে পাঠাত। এ কারণে সিকিউরিটিজটির জালিয়াতি তারা বুঝতে পারেনি। সিকিউরিটিজ হাউজটির মালিকসহ তার দুই বোন প্রায় শতকোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে তাদের অভিযোগ।
বিনিয়োগকারীদের আবেদন ছাড়া কিভাবে সিডিবিএল মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি ঠিকমতো মনিটর করত তাহলে এ ধরনের জালিয়াতি ঘটত না। তামহা সিকিউরিটিজের মালিক ডা. হারুন বিনিয়োগকারীদের এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও তাদের অভিযোগ। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিচারের আওতায় এনে টাকা ও শেয়ার ফেরতের উদ্যোগ নিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের প্রতি ওইদিন অনুরোধ জানিয়েছিলো ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর থেকে তামহা সিকিউরিটিজে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ডিএসই’র ওয়েবসাইটেও তামহা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, বিনিয়োগকারীদে স্বার্থে তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন বা ব্যবসা পরিচালনা এবং ডিপি সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এ অবস্থায় উক্ত ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির গ্রাহকরা চাইলে তামহা সিকিউরিটিজের ডিপিতে থাকা নিজ নিজ নামের শেয়ার অন্য কোনো ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিতে লিংক অ্যাকাউন্ট খুলে ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে নিয়ে যেতে পারবে।
এক্ষেত্রে সিডিবিএল ফরম ১৬-১, ১৬-২ যথাযথ পূরণ করে সিডিবিএল থেকে সংগৃহীত ডিপিএ-৬ রিপোর্টসহ ডিএসই’র নিকুঞ্জ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়া তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ থাকলেও তা ডিএসইকে জানাতে আহ্বান করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তামহা সিকিউরিটিজকে জরিমানা করে বিএসইসি। গত বছরের মার্চ মাসেও সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন মেনে চলতে ব্রোকারেজ হাউজটিকে সতর্কপত্র দিয়েছিল বিএসইসি।
সোনালীনিউজ/এমএইচ/এমটিআই







































