ফাইল ছবি
দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কমোডিটি সেগমেন্টের জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য অধিক কর সুবিধা, নতুন কোম্পানির কর অবকাশ এবং করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান। এ সময় পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিবেচিত বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদেরসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। দেশের শেয়ারবাজারের আধুনিকায়ন, গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।
তিনি বলেছেন, ‘বাজেটে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা, সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, বাজার অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুততর সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য ও ইনস্ট্রুমেন্টের তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
সিএসই জানায়, বাংলাদেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে কারণে কমোডিটি সেগমেন্টকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। সিএসই এ ব্যবধান ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তিন বছরের জন্য করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়া ডিজিটালাইজেশনকে উৎসাহিত করতে অনাবাসী ব্যক্তিদের কারিগরি সেবার বিপরীতে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে এবং সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব জানিয়েছে সিএসই।
করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের ওপরও বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বন্ড মার্কেট উন্নয়নের কথা বলা হলেও এর বিস্তারে সুস্পষ্ট কৌশল উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষ করে জিরো কুপন বন্ডের কর অব্যাহতি প্রত্যাহারকে বাজার বিকাশের পরিপন্থী বলে মনে করছে সিএসই।
এ ছাড়া বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কর সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সুবিধা বাতিল হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করের বোঝা বাড়বে বলে মনে করে সিএসই।
এসএইচ







































