• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ: এডিবি


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ: এডিবি

ফাইল ছবি

ঢাকা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর আগে জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীরগতির ছিল। তবে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগ শক্তিশালী হওয়ায় তার প্রতিফলন ঘটেছে প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক পূর্বাভাসে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে আবার ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, নৌ-পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্ন, খাদ্যপণ্যের মূল্যে এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাব ও মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করার কারণে মূল্যস্ফীতি আরও কিছুদিন চড়া থাকতে পারে।

রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি বাড়ার কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির ০.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে সেবা ও কৃষি খাত। তবে চড়া সুদহার, ঋণের সীমিত সুযোগ, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা ও অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত কিছুটা চাপের মুখে থাকতে পারে। 

রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া অব্যাহত থাকবে। 

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর জিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে; তবে এই পুনরুদ্ধার এখনও বাহ্যিক অভিঘাত এবং অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির মতো সংস্কার কার্যক্রমগুলোকে ত্বরান্বিত করার এটাই উপযুক্ত সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশকে শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এসব সংস্কার অপরিহার্য।

পিএস

Link copied!