ফাইল ছবি
ঢাকা: চলতি বছরের ৩-৬ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যে সকল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সারসংক্ষেপ পাঠালে তিনি এই অগ্রগতির তথ্য জানতে চান। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত সারসংক্ষেপ পাঠালে তিনি সেটি অনুমোদন করে নথিতে হাতে লিখে এই তথ্য জানানোর কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রতি বছর জেলাপ্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে। সর্বশেষ জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ কর্তৃক সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিষয়, উন্নয়ন কর্মসূচি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা গ্রহণ এবং তাঁদের নিকট হতে প্রেরিত জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবসমূহের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়, সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত রাখা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নসহ মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
এছাড়া, জেলা প্রশাসকগণ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, সেসব বিষয়ে সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা), প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং সিনিয়র সচিব/সচিবগণ সরাসরি দিক্-নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। গত ২০২৬ সালের জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পীকার এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি দিক্-নির্দেশনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৭-এর জন্য প্রস্তাবিত তারিখ প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদন সাপেক্ষে সম্মেলনের উদ্বোধন এবং রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পীকার ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানসহ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী সম্মেলনের একটি খসড়া কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী জেলাপ্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন করে থাকেন। ২০২৬ সালের ন্যায় জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৭-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য অধিবেশনসমূহ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজন করা যেতে পারে।
এমতাবস্থায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ হতে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজন করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টা অথবা প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গত ৬ মে শেষ হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিরা অংশ নেন। মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়। সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন থেকে আসা ১,৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
পিএস







































