• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রপ্তানিতে আশার আলো, শুল্ক কমার সম্ভাবনা কম


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রপ্তানিতে আশার আলো, শুল্ক কমার সম্ভাবনা কম

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা নেই। বরং নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায় এই বাজারে। ফলে দেশটির বাণিজ্যনীতিতে যেকোনো পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামানোর কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের পরপরই শুল্ক কমে যাওয়ার সুযোগ দেখছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রপ্তানিকারকদের মতে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। তবে বিদ্যমান আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকায় শুল্কনীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পেছনে তাঁর শুল্কনীতির প্রভাব রয়েছে। এসব শুল্ক শুধু অন্য দেশগুলোর ক্ষতি করেনি, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তিতে ফেলেছে। তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান বলেন, দুই বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার জাতীয় নির্বাচন। ফলে ট্রাম্পকে তাঁর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তাঁর দলের নির্বাচনী সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের উচিত শুধু শুল্ক ছাড়ের ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস থাকলে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম। তাই ২০২৭ সালের রপ্তানি আদেশ পরিকল্পনায় বর্তমান শুল্কহার বিবেচনায় রাখা উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও সিনথেটিক ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কসুবিধা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট পণ্য ও পরিমাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া সম্ভব। তবে সাধারণ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে এবং এ সুবিধার মেয়াদ তিন বছর।

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকে থাকতে শ্রম অধিকার, মজুরি, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ জরুরি। বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশের সামনে যেমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি নতুন চ্যালেঞ্জও এসেছে। কংগ্রেসের নজরদারি বাড়লে বাণিজ্যনীতিতে কিছুটা পূর্বানুমানযোগ্যতা আসতে পারে। তবে শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মান ও দায়িত্বশীল কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়ে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কূটনীতি বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করলেও তাৎক্ষণিক শুল্ক ছাড়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং বাজার ধরে রাখতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, শ্রম অধিকার ও সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে

এসএইচ 

Link copied!