• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

 হলে মেয়াদোত্তীর্ণদের বিষয়ে কঠোর ঢাকা কলেজ প্রশাসন


ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি মে ২, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
 হলে মেয়াদোত্তীর্ণদের বিষয়ে কঠোর ঢাকা কলেজ প্রশাসন

ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত মাস্টার্স ও অন্যান্য মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। গত শুক্রবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়া শিক্ষার্থী এবং ২০১৯-২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সবাইকে দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ দেন তারা। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে হলের বাইরে চলে যান।

অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ৩০ এপ্রিল ছিল হল ছাড়ার শেষ সময়। আজ ১ তারিখ হয়ে গেলেও যারা রয়ে গেছেন, তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, হলে আর থাকা যাবে না। ২০১৯-২০ সেশন বা তার আগের কোনো শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম সবার জন্য সমান।

তবে প্রশাসনের এই অভিযান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তবে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তারা হল ছাড়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে থেকে যায়, তবে সেটি মেনে নেওয়া হবে না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন কেবল নির্দিষ্ট কিছু সেশনের শিক্ষার্থীদের ওপর জোর দিচ্ছে, অথচ ২০১৫-১৬ সেশনের অনেক ‘আদুভাই’ এখনো হলে বহাল তবিয়তে আছেন। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কোনো তালিকাও এখনো প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

মো. মমিন নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন রুমে এসে ১৯-২০ সেশন খুঁজছে। কিন্তু তার আগের অনেক পুরাতন সেশনের শিক্ষার্থী এখনো সিট ছাড়েনি, তাদের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। মো. ইমরান মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, যাদের পড়াশোনা ১০-১৫ বছর আগে শেষ হয়েছে, তারা এখনো হলে থাকে কীভাবে? ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার সময় হলেও ১৯-২০ সেশনের জন্য আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করতে হবে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এই কঠোর অবস্থান নিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে খালি হওয়া আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সিট দখল রোধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

এসএইচ 

Link copied!