ফাইল ছবি
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই ইসরায়েল থেকে এসেছে কড়া হুঁশিয়ারি-ইরানে যিনিই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হোন না কেন, তাঁকেই হত্যা করা হবে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইসরায়েলকে ধ্বংসের পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘মুক্ত বিশ্ব’ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত রাখলে নতুন যেকোনো ইরানি নেতাকেই হত্যার নিশানা করা হবে। তাঁর ভাষায়, “নাম যা–ই হোক, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন-এটা ঘটবে।”
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বক্তব্য কেবল প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ও ভবিষ্যৎ নীতির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টির কৌশল। ইরানে সর্বোচ্চ নেতা পদটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। সেই পদে যিনি বসেন, তিনিই দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন। ফলে নতুন নেতাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
গত শনিবারের হামলার পর তেহরানে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ‘উপযুক্ত সময়ে’ জবাব দেবে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি পাল্টা হামলার ঘোষণা আসেনি, তবে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই অবস্থান তিনটি বার্তা বহন করছে। প্রথমত, ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও নীতিগত ধারাবাহিকতা থাকলে তাতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে না। দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য নতুন নেতাকে আগেভাগেই ‘ডিটারেন্স’ বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপে রাখা। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের সামনে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করে আঞ্চলিক সমীকরণে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া জাতিসংঘ সনদের চেতনার পরিপন্থী। এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ উসকে দিতে পারে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়াতে পারে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। প্রক্রিয়াটি সাধারণত গোপনীয় এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ইতিমধ্যে বহুমাত্রিক সংঘাতে জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের প্রশ্নকে ঘিরে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের উত্তরসূরি নির্বাচনের গতি ও পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।
এসএইচ







































