• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

লিভার নষ্ট হওয়ার এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করছেন না তো?


সোনালী ডেস্ক মে ১৭, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
লিভার নষ্ট হওয়ার এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করছেন না তো?

ফাইল ছবি

শরীরকে সচল ও সুস্থ রাখতে লিভার বা যকৃতের ভূমিকা অনন্য। খাবার হজম করা থেকে শুরু করে শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে এই অঙ্গটি। কিন্তু কোনো কারণে লিভার যদি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে, তবে তা পুরো শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিভারের সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে বেশ কিছু লক্ষণ নিয়ে তুমুল আলোচনা ও তথ্য শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে। নেটনাগরিকদের একাংশ বলছেন, দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ শারীরিক পরিবর্তনই মূলত লিভার নষ্ট হওয়ার আগাম বার্তা দেয়, যা অনেকেই অবহেলা করেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের আলোচনায় উঠে আসা প্রথম ও প্রধান লক্ষণটি হলো জন্ডিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূত্র ধরে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, জন্ডিসে আক্রান্ত হলে চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ আকার ধারণ করে। সুস্থ অবস্থায় লিভার বিলিরুবিন শোষণ করে পিত্তে রূপান্তরিত করে, যা হজম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। কিন্তু লিভার যখন এই বিলিরুবিনকে সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, তখনই জন্ডিস দেখা দেয়। একে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা।

অনলাইন আড্ডায় লিভারের সমস্যার আরেকটি অদ্ভুত লক্ষণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো ত্বকের চুলকানি। লিভারের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে উচ্চ মাত্রার পিত্ত লবণ ত্বকের নিচে জমতে থাকে, যার ফলে শরীরে অস্বস্তিকর চুলকানি দেখা দেয়। অবশ্য সব ধরনের চুলকানির কারণ পিত্ত লবণ নয়, তবে লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে ত্বকে এই সমস্যা বেশি প্রকাশ পায় বলে আলোচনা করছেন অনেকে।

খাবারের প্রতি হঠাৎ অনীহা বা ক্ষুধা কমে যাওয়াও লিভারের সমস্যার সঙ্গে জড়িত বলে সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে। লিভারে উৎপন্ন পিত্ত রস খাবার হজমে মূল ভূমিকা রাখে। লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে হজমে গোলমাল দেখা দেয়, যার ফলে ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, শরীরের কোথাও কেটে বা ছড়ে গেলে যদি রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয় কিংবা ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে তা লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কারণ রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি হয় লিভারে। লিভার অসুস্থ থাকলে প্রোটিন উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা থেকে পরবর্তী সময়ে রক্তবমি বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভার্চুয়াল জগতের সচেতনতামূলক পোস্টগুলোতে লিভারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র নিয়েও কথা হচ্ছে। লিভার যখন শরীরের দূষিত পদার্থ বা টক্সিন ফিল্টার করতে পারে না, তখন সেই টক্সিন শরীরে জমতে থাকে। এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মেজাজের ওপর। ফলে হুট করে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া, খিটখিটে মেজাজ, একাগ্রতার অভাব কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এ ছাড়া পাঁজরের একটু নিচে পেটের ডান দিকে ব্যথা হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, সব সময় আচ্ছন্ন থাকা কিংবা শরীরে কাঁপুনি দেওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিলে মোটেও সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের এই আলোচনাগুলোতে। যাপনযাত্রায় সামান্য সচেতনতাই পারে লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুস্থ রাখতে, আর তাই এই লক্ষণগুলো চিনে রাখা প্রত্যেকের জন্যই জরুরি।

এসএইচ 
 

Link copied!