• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বেতন কম-দায়িত্ব বেশি, পে-স্কেল নিয়ে কর্মচারীদের হতাশা আর ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
বেতন কম-দায়িত্ব বেশি, পে-স্কেল নিয়ে কর্মচারীদের হতাশা আর ক্ষোভ

ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে সংসারের সীমিত অর্থ দিয়ে জীবনের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ এই দুইয়ের মধ্যে চাপ বেড়েই চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুরোধ ও অভিযোগ থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বর্তমান জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না।

রশিদ আহমেদের লেখা বার্তায় দেখা যায়, তিন বেলা ডাল ভাত খাওয়ার মতো সাধারণ খাওয়ার বিষয়েও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরিবার চালানো হচ্ছে। তিনি লেখেন, আমাদের মেধাবী ছেলেমেয়েদের কে জ্ঞানগরিমায় আপনার মতো বিশ্ববরেণ্য করে গড়ে তুলতে চাই; ৯ম পে স্কেল তার সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

আরেক শিশুর, কায়েস মন্ডলের, গুটি গুটি ভাষা প্রকাশ করে পরিবারের বাস্তবতার কথা—“আমার বাবার বেতন বাড়িয়ে দিন, আমার বাবা অসুস্থ, তার হয়ে আমি আর মা এসেছি, আমাদের অনেক কস্ট হয়।” এ ধরনের ছোট্ট বার্তাগুলো প্রকাশ্যে এসেছে যখন সরকারি কর্মচারীরা জানিয়েছে, পে-স্কেল ঘোষণা না হলে বাচ্চাদের নিয়ে সচিবালয়ে ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।

বর্তমান ৮ম জাতীয় পে-স্কেলের বেতন অনেক কর্মচারীর দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। মাসের অর্ধেক বেতন চলে না দৈনন্দিন খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষা খরচে। বিশেষ করে একক আয়ের পরিবারে এই চাপ আরও বেশি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি বেতন কাঠামো নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় কর্মচারীদের মানসিক চাপ বেড়েছে। যেসব পরিবারে একাধিক সন্তান উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন দক্ষতায় এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য এই সীমিত বেতন এক ধরনের বাধা তৈরি করছে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, ৯ম পে-স্কেল কেবল বেতনের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষার ওপর চাপ কমানো, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে শুধু আর্থিক চাপ নয়, সামাজিক ও মানসিক উদ্বেগও বাড়বে।

সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামোর ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার কারণে তারা “নীল চাষিদের মতো” নিষ্পেষিত অবস্থায় রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কর্মী সমাজের বৃহত্তর প্রভাব তৈরি করার জন্য সরকারি নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পে-স্কেল ঘোষণা না হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রতিরোধ ও অসন্তোষ বেড়ে যেতে পারে। সুষ্ঠু এবং সময়মতো ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা পরিবার ও শিক্ষিত সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করবে এবং কর্মীদের মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

বৃহত্তর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারের জন্য এটি শুধু কর্মচারীদের স্বার্থ নয়, দেশের দক্ষ জনশক্তি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৯ম পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।

এসএইচ 
 

Wordbridge School
Link copied!