ফাইল ছবি
নবম পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। একই সঙ্গে চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে। আগামী বুধবার ২১ জানুয়ারি এসব সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।
সোমবার পে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে এটি বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হবে। তবে ঈদ বোনাস আগের মতোই বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পে কমিশনের এক সদস্য বলেন, বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তবে অন্যান্য ভাতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে নবম পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতা তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, চিকিৎসা ভাতা দুই ক্যাটাগরিতে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। বয়স ৪০ বছর বা তার কম সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে চার হাজার টাকা এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সীরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
পে কমিশনের এক সদস্য বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ে। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বয়স্ক চাকরিজীবীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অবসরের পরও একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক পাঁচ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা। নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তার মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে এর জন্য অর্থের সংস্থান রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ছয় হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূল বেতন বা ভাতার যেকোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ বাস্তবায়নের বিষয়টি পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, সুদের উচ্চ ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে পে কমিশনের সব সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশন একটি শক্ত প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে বাস্তবায়ন একটি ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
এসএইচ







































