• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন কমিশনপ্রধান ও অর্থ উপদেষ্টা


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন কমিশনপ্রধান ও অর্থ উপদেষ্টা

নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে।

প্রতিবেদন পেশের সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সব সদস্য।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

এ সময় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।’

প্রতিবেদন দাখিলকালে কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় সুস্পষ্ট কার্যপরিধির আলোকে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, কমিশন কাজের অংশ হিসেবে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করেছে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিস্তৃত মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

কমিশনপ্রধান আরও জানান, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, সরকার গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ছয় মাস সময় বেঁধে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। অষ্টম বেতন কমিশনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশন তাদের জন্য বরাদ্দ বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

এম

Wordbridge School
Link copied!