• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব

ফাইল ছবি

জ্বালানি খাতের ঘাটতি মেটাতে ও ভর্তুকির চাপ কমাতে দেশে বিদ্যুতের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই প্রস্তাব আমলে নিয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ ও ২১ মে এই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তাদের আবেদনে জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা দাম বাড়ানো হলে সরকারের ভর্তুকি বাবদ ব্যয় প্রায় ১২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা কমবে। সংস্থাটি বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে ছয়টি বিতরণ সংস্থার কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে। উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতেই মূলত এই দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ।

পিডিবি জানিয়েছে, দাম বাড়ানো হলেও নিম্নআয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য সুখবর রয়েছে। যারা মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, সেই ৬৩ শতাংশ গ্রাহকের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হলে মূলত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের বিল বাড়বে।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বেড়েছিল। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, পাইকারি দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই খুচরা পর্যায়ের দাম নির্ধারণ করা হয়। কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন এবং অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, খরচ কমিয়েও ভর্তুকি সমন্বয় করা সম্ভব। তাঁর মতে, নতুন করে দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কাম্য নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারেও খরচ বেড়েছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। গত ১৮ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি বর্তমানে এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তদারকি করছে।

এসএইচ 

Link copied!