ছবি: সংগৃহীত
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। ৮২ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের শরীরে নেই কোন শক্তি, নেই স্মৃতিশক্তিও। যে মানুষটির একটি ডাকে এক সময় রাজপথ প্রকম্পিত হতো, আজ তিনি কাউকেই চিনতেই পারছেন না। অথচ জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে যখন তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন, ঠিক তখনই আইনি নথিতে তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ‘পলাতক’ তকমা। জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দুইজনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই দশক আগে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন।
গত ৫ মে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তিনি কাউকে চিনতে পারছেন না এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি লোপ পেয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলা হয়, পলাতক থাকা অবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে আগামী ৭ মে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এই মামলাটি দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলন করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ সময় হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সম্প্রতি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় পুনরায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অসামান্য সাংগঠনিক ভূমিকা রেখেছিলেন। জীবনের ২০ বছর মন্ত্রিত্ব সামলানো এবং টানা ৩৩ মাস কারাবরণ করা এই নেতার শেষ জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। তাঁর নিকটজনদের মতে, তিনি এখন এক ভিন্ন জগতে বাস করছেন যেখানে চেনা পরিচিতি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় অর্থহীন।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের শাসন যেমন জরুরি, তেমনি মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যে মানুষটি এই মাটির জন্য সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু ত্যাগের আগে তাঁর প্রতি রাষ্ট্র কতটা সংবেদনশীল হতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ষড়যন্ত্রের জাল হোক কিংবা আইনের কঠোরতা, একাত্তরের এই অন্যতম সংগঠককে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাস বলেই মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।
এসএইচ












-69e1dc4e4a296-69e4310da6b3b-69f377fd532e3-(1)-20260507022753.jpg)


























