• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশে অস্থিরতা, আতঙ্কে কর্মকর্তারা


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশে অস্থিরতা, আতঙ্কে কর্মকর্তারা

ছবি: প্রতীকী

পুলিশ সপ্তাহ চলাকালেই দুই জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) যোগদানের আগেই প্রত্যাহার এবং ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোয় পুলিশ বাহিনীর ভেতরে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বা রাজনৈতিক তকমা থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই অস্থিরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একের পর এক এমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফেনী ও পঞ্চগড় জেলায় নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই এসপিকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ ওঠায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তিনি দাবি করেছেন, পদোন্নতি ঠেকাতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের এসপি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর সুপারিশে পদায়ন পাওয়ার অভিযোগ আসায় তাকেও প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাহিনীর ভেতরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা শৃঙ্খলাজনিত কারণ দেখিয়ে যখন-তখন বদলি ও অবসরের ঘটনায় কর্মকর্তারা এখন পদোন্নতি বা ভালো পোস্টিং পেতেও ভয় পাচ্ছেন। ডিএমপি ও বিভিন্ন জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কখন কার বিরুদ্ধে পুরোনো কোনো ফাইল খোলা হয় বা কার ওপর রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়, সেই আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এগুলো মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং কারও প্রতি যাতে অবিচার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নীরবতা ও সতর্কভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলার এসপিদের বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১৬ জন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোয় বাহিনীর ভেতরে অস্বস্তি আরও ঘনীভূত হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখন দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের পদ রক্ষাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

এসএইচ 

Link copied!