ফাইল ছবি
সরকার গঠনের পর প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহুমাত্রিক এই সফরকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। সফরের প্রধান ফোকাস আন্তর্জাতিক রাজনীতি হলেও নেপথ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক চুক্তি, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক।
নিউইয়র্ক সফরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের পুরো সময়জুড়ে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ, বিশেষ বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। বৈশ্বিক ফোরামে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করে তিনি সতর্ক করেন যে, বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘসূত্রতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার তাগিদও ছিল তাঁর বক্তব্যে।
এই সফরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস একে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের বড় অর্জন বলে স্বাগত জানালেও, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এত বড় অর্থায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে দেশের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দেয়।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকটি নজরকাড়া বিষয় ছিল শেখ হাসিনা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বক্তব্য। নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আলোচনার বিষয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আশা করে দুই দেশ মিলে এর একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে নেবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশে নতুন সরকারের এই এক্সপোজার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার তার বৈশ্বিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের যে নতুন ছক এঁকেছে, তার বাস্তব সুফল আগামী দিনগুলোতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এসএইচ







































