• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রাজনীতির নামে নাশকতা: দায় কার?


সাজ্জাদ হোসাইন ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৪:০২ পিএম
রাজনীতির নামে নাশকতা: দায় কার?

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইন কেটে ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে-রাজনীতির নামে এই নাশকতার দায় আসলে কার? ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবন যখন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তখন দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এই নাশকতার সূত্রপাত। নমিনেশন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে রেললাইন বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়-বরং এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং জনজীবন বিপন্ন করার অপরাধ।

এই রেলপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। রেললাইন কেটে দেওয়ার ফলে রাতভর ট্রেনে আটকে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরম। শীতের রাতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা মানবেতর অবস্থার শিকার হন। অথচ এই মানুষগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কোনো সম্পর্ক নেই।

একই এলাকায় বারবার নাশকতার ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রেললাইন কাটা ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধ ঘটার পরও যদি দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়-এটাই বাস্তবতা।

রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বও এই দায় এড়াতে পারে না। নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং নীরব সমর্থন-সবকিছুই নাশকতার পথকে প্রশস্ত করে। রাজনীতির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় সংশ্লিষ্ট দলকেই নিতে হবে।

রেললাইন কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়-এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে হামলা মানে কেবল ট্রেন লাইনচ্যুত করা নয়, বরং মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আঘাত হানা। আইন অনুযায়ী এটি গুরুতর অপরাধ হলেও বাস্তবে শাস্তির নজির খুবই কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক নাশকতার ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। শুধু বিবৃতি বা তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় এড়ানো নয়-প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ।

রাজনীতির নামে নাশকতা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষই বারবার মূল্য দেবে। ক্ষমতার লড়াইয়ের মাশুল যেন আর জনগণকে দিতে না হয়-এটাই এখন সময়ের দাবি। প্রশ্ন একটাই-এই নাশকতার দায় কি কেউ নেবে, নাকি দায়হীনতার সংস্কৃতি চলতেই থাকবে?

এসএইচ 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

Wordbridge School
Link copied!