ঢাকা : খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে ভোটার উপস্থিতিকে মূল টার্গেট করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
কারণ ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনার তিনটি আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ওই সময়ে বাকি তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দাকোপ), খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা), খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে ভোটের হিসাব অনেকটা সহজ। কারণ এখানে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্ত কোনো প্রার্থী নেই। এতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করছেন প্রার্থীরা।
খুলনা-৪ (তেরখাদা-রূপসা-দীঘলিয়া), খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনগুলোয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নিজ দলের প্রার্থীরা।
খুলনা-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। খুলনা-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, সকাল-সন্ধ্যা প্রচারণা চালাচ্ছি। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। ৬০ ভাগ ভোটার উপস্থিতির টার্গেট রয়েছে।
দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে ৪৬ দশমিক ৮১ ভাগ, খুলনা-২ আসনে ২৬ দশমিক ৬৪ ভাগ ও খুলনা-৩ আসনে ২৯ দশমিক ৬৩ ভোট পড়েছিল। আরও জানা যায়, এই তিনটি আসনে অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র ও ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন করলেও ভোটারদের কাছে তারা একদমই নতুন মুখ। এতে তিনটি আসনে নৌকার জয় অনেকটা নিশ্চিত হলেও ভোটারদের উপস্থিতি একটা ব্যাপার হতে পারে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪১৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৪১২ জন। এবার আসনটিতে ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ২৬৭। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসনটির সাবেক সংসদ-সদস্য ননী গোপাল মন্ডল, লাঙ্গলের প্রার্থী কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায়। দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৫১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিল মাত্র ৭০ হাজার ১২০ জন। এবার আসনটিতে ভোটার ৩ লাখ ২০ হাজার ২২০ জন। আসনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও বর্তমান সংসদ-সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির গাউসুল আজম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র সাঈদুর রহমান। দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিল ৫২ হাজার ৮৮৬ জন। এবার আসনটিতে ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৩ জন। আসনটিতে টানা তিনবারের সংসদ-সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবার নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাকের পার্টির এসএম সাব্বির হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা জামান সাথী। অন্যদিকে দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা-৫ আসনে নারায়ণ চন্দ চন্দ ও খুলনা-৬ আসনে শেখ মো. নুরুল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে সুজা এবং নুরুল হক মারা গেছেন। খুলনা-৪ আসনে দ্বাদশ নির্বাচনে ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৩ জন। নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ-সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আসনটির প্রয়াত সংসদ-সদস্যের ছোট ভাই ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এসএম মোর্ত্তজা রশিদী দারা। এছাড়া প্রার্থী রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজভী আলম, এমডি এহসানুল হক এবং জুয়েল রানা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এসএম আজমল হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা এবং ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান। খুলনা-৫ আসনে দ্বাদশ নির্বাচনে ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৭১ জন। নৌকার প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ-সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন। এছাড়া রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শাহীদ আলম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার। খুলনা-৬ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৩২০ জন। প্রথমবার নৌকার প্রার্থী হয়েছেন মো. রশীদুজ্জামান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জিএম মাহবুবুল আলম। এছাড়া রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, তৃণমূল বিএনপির মো. নাদির উদ্দিন খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এসএম নেওয়াজ মোরশেদ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম।
এমটিআই







































