• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘শাপলা চত্বর ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে‍‍’


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
‘শাপলা চত্বর ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে‍‍’

ফাইল ছবি

ঢাকা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার (৫ মে) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে মামুনুল হক বলেন, আজ ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ভয়াল ও বেদনাবিধুর’ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই ঘোষণা দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের এই দিনে একটি শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন নির্মম দমন-পীড়নের শিকার হয় এবং অসংখ্য নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় শাপলা চত্বর।

তিনি লিখেন, ‘সে রাতের স্মৃতি এখনও জাতির হৃদয়ে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে এবং এই অধ্যায় ভুলে যাওয়ার নয়। বরং এটি জাতিকে দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেয়।’

মামুনুল হক তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘৫ মে গাবতলী পয়েন্টে নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলাম। পরে শাপলা চত্বরে জমায়েতের ঘোষণায় মিছিল নিয়ে ছুটি শাপলা চত্বর অভিমুখে। ঢাকা অবরোধের প্রতিটি পয়েন্ট থেকে লাখ লাখ মানুষের মহা মিছিল এসে মিলিত হতে থাকে শাপলার মোহনায়। মানুষের অনিঃশেষ এ যাত্রা দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায় ফ্যাসিবাদী শক্তির। হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ মানুষের উপর। রক্তে ভেসে যায় গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, প্রেসক্লাব, পল্টন, দৈনিক বাংলা, বিজয়নগরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। মৃত্যুর উপত্যকা পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শাপলার দিকে মানুষ ছোটে পঙ্গপালের মতো। সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশের ডুবন্ত সূর্যের লালিমা একাকার হয় ঢাকার রক্তে রাঙা রাজপথে। 

খুন রাঙ্গা লাশ আসতে থাকে মঞ্চের দিকে। সারি সারি লাশ দেখে যেন ভুলে যাই জীবনের মায়া। শাহাদাতের তামান্না দৌড়াতে থাকে শিরায় শিরায়। সবটুকু আবেগ ছিটকে পড়ে ক্ষণিকের বক্তব্যে। মাউথ পিস হয়ে পৌঁছে যায় জনতার সমুদ্রে। ইথারে ইথারে ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে।

রাত দুটার পর হঠাৎ ব্ল্যাকআউট করা হয়। শুরু হয় চারদিক থেকে মুহুর্মুহু হামলা। প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় নবী প্রেমিক জনতা। কিন্তু অস্ত্রের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে তারা।’ 

মামুনুল হক আরও বলেন, দীর্ঘদিন এই ঘটনায় শহীদদের নিয়ে প্রামাণ্য কাজ করা সম্ভব হয়নি। সময় ও পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূল। ২৪ পরবর্তী সময়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শাপলা স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

শহীদদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ চলছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘তাদের স্মৃতি জাতির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এবার অনেক সংগঠন শাপলা নিয়ে কর্মসূচি নিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পাশাপাশি খেলাফত ছাত্র মজলিস, যুব মজলিস, ছাত্র শিবির, ছাত্র জমিয়ত, ইনকিলাব মঞ্চ, ডাকসু, চাকসু, রাকসু, এনসিপিসহ অনেক সংগঠন শাপলাকে ধারণ করে কর্মসূচি দিয়েছে। শাপলা স্মৃতি সংসদের আঞ্চলিক শাখাগুলো প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনসহ হাতে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

যারা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন, সবাইকে অভিনন্দন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই জাতীয় দায়বোধকে জাগ্রত করবে। ইতিহাসের এই ঋণ আমাদের সবাইকে শোধ করতে হবে। তবে এখনো অনেক পথ বাকি। জাতীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে দায় পূর্ণ হবে না।’

‘শাপলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার’ উল্লেখ করে মামুনুল হক লেখেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম চলমান থাকবে। যতদিন না বিচার হয়, ততদিন এই দাবি থামবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যের পথে অবিচল রাখুন।

পিএস

Link copied!