ফাইল ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য এই কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার ঢাকায় একটি জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রচলিত আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী এখন রাজনৈতিক দলের বিচার করা সম্ভব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আজ রোববার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজীবীদের মতে, তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়ার পর অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিললে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। এরপর আদালত উপাদানগুলো পর্যালোচনা করে তা আমলে নেবেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল বিচার।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা বিগত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে পাস করে আইনি ভিত্তি আরও মজবুত করে।
গণহত্যার দায় ও সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অধীনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার এই উদ্যোগ দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সম্মুখভাগের এই আইনি তৎপরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এসএইচ







































