• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭
গাড়ির তুলনায় বাড়েনি সড়ক তিন-চতুর্থাংশই মোটরসাইকেল

এক দশকে যানবাহন বেড়েছে তিনগুণ


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ০৩:৪৯ পিএম
এক দশকে যানবাহন বেড়েছে তিনগুণ

ঢাকা : দেশে গত ১০ বছরে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি সড়ক-মহাসড়কের দৈর্ঘ্য। ফলে চাপ বাড়ছে সড়কে। এদিকে প্রতি বছর ব্যক্তিগত গাড়ির উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাড়ছে না গণপরিবহনের সংখ্যা।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৮টি। বর্তমানে রয়েছে ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৮টি।

বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে দেড় লাখেরও বেশি নতুন যানবাহন রাস্তায় নেমেছে। তবে পরের দুই বছর (২০১৫ ও ২০১৬) তা বেড়েছে দ্বিগুণ হারে অর্থাৎ ৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

২০১৫ সালে বিআরটিএ থেকে ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৪১টি এবং ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬৪টি নতুন যানবাহন রেজিস্ট্রেশন করে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে ৪ লাখেরও বেশি।

২০১৭ সালে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৩টি, ২০১৮ সালে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৮২টি এবং ২০১৯ সালে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩২ টি নতুন যানবাহন রাস্তায় নামে। ২০২০ সালেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে করোনার কারণে কিছুটা কমে যায়। ওই বছর ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬০টি নতুন যানবাহন রেজিস্ট্রেশন করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রেজিস্ট্রেশনকৃত বা নিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশই মোটরসাইকেল। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত সাড়ে ৪৫ লাখ যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলই আছে ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৬৫৩টি।

এরপরে সর্বাধিক সংখ্যক যানবাহনের মধ্যে আছে প্রাইভেট কার ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪১টি, অটো রিকশা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫০টি, ট্রাক ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৯টি, ডাবল ও সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৬টি, মাইক্রোবাস ১ লাখ ৩ হাজার ৪২৮টি, জিপ গাড়ি ৬৪ হাজার ৯৩৬টি।

সড়কপথে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ যে পরিবহনটিতে সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করে সেই বাস আছে মাত্র ৪৭ হাজার ৮৪১টি এবং নিবন্ধিত ট্রাক্টরের সংখ্যা ৪২ হাজার ৩৫৬টি, কাভার্ড ভ্যান আছে ৩৭ হাজার ১৭৩টি, ট্যাক্সিক্যাব ৩৬ হাজার ১০৭টি। এছাড়া নিবন্ধিত অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে আছে ডেলিভারি ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, ট্যাংকলরি, অটো টেম্পো, পিক আপ, কার্গোভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপানের জাইকা ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা কেমন হতে পারে সে সম্পর্কিত একটি জরিপ করেছিল। এতে দেখা যায়,২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের বৃদ্ধিও হার হবে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, থ্রি হুইলার ৭দশমিক ০৬ শতাংশ, প্রাইভেটকার ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, ইউটিলিটি যানবাহন ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, বাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ট্রাক ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার হবে মোটরসাইকেল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, থ্রি হুইলার ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রাইভেক কার ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ইউটিলিটি যানবাহন ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, বাস ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ট্রাক ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার হবে মোটরসাইকেলে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ, থ্রি হুইলার ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার ২ দশমিক ৭১ শতাংশ, ইউটিলিটি যানবাহন ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, বাস ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ট্রাক ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

২০৩০ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেলে এই বৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, থ্রি হুইলারে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, প্রাইভেক কার ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ইউটিলিটি যানবাহন ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বাসে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ট্রাকে ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯১ কিলোমিটার।

এর মধ্যে আরএইচডির নিয়ন্ত্রণে আছে বাংলাদেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়ক মহাসড়কগুলো। যার মোট দৈর্ঘ্য মাত্র ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার। যা বাংলাদেশের মোট সড়কের মাত্র ৬ শতাংশ। মূলত নিবন্ধিত মোটর যানবাহনের সিংহভাগই চলাচল করে এসব সড়ক-মহাসড়কগুলোতে।

দেশে জাতীয় মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক সড়ক আছে ৪ হাজার ২৪৭ কিলোমিটার এবং জেলা সড়ক আছে ১৩ হাজার ২৪২ কিলোমিটার। অন্যদিকে এলজিইডি’র নিয়ন্ত্রণাধীন আছে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের রাস্তাগুলো। যার মোট দৈর্ঘ্য ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯ কিলোমিটার। যা বাংলাদেশের মোট সড়কের ৯৪ শতাংশ।

একটি বেসরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে সড়কের ঘনত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি দেশের মোট আয়তনের তুলনায় সড়কের দৈর্ঘ্যের অনুপাতই হচ্ছে সড়কের ঘনত্ব। ২০০০ সালে দেশে সড়কের ঘনত্ব ছিল প্রতি ১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বিপরীতে ১৪৪ দশমিক ১ কিলোমিটার। ২০০৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৬ দশমিক ১ কিলোমিটার।

সোনালীনিউজ/এমটিআই