• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সন্ধ্যা নামলেই অস্ত্রের ঝনঝনানি: মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক কাটছে না কিছুতেই


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
সন্ধ্যা নামলেই অস্ত্রের ঝনঝনানি: মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক কাটছে না কিছুতেই

ফাইল ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা গত দুই বছর ধরে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবে এক আতঙ্কজনক জনপদে পরিণত হয়েছে। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রবাজির অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া এই এলাকায় দিনে-দুপুরে বা রাতের অন্ধকারে বেপরোয়া অস্ত্রের মহড়ায় অশান্ত হয়ে উঠছে অলিগলি। আধিপত্য বিস্তার ও নানা বিরোধের জেরে গত দুই বছরে এসব গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ঝরে গেছে অন্তত ৯টি তাজা প্রাণ, আর আহত হয়েছেন অর্ধশতারধিক মানুষ।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরসংলগ্ন কেরানীগঞ্জে ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত ফরহাদ মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক 'পাটালী গ্রুপের' সদস্য ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ মোহাম্মদপুরের বছিলায় এক মতবিনিময় সভায় কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, মোহাম্মদপুরে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব রাখা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা নামলেই এলাকার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলিতে দলবদ্ধ তরুণদের আড্ডা এবং প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া নিত্যদিনের চিত্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্ষনের পর মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল। সেই নৈরাজ্যের রেশ কাটলেও এখানকার অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং এখনো নিয়ন্ত্রণহীন।

এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠা গ্যাংগুলোর তালিকায় রয়েছে অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ, আরমান-শাহরুখ গ্রুপ, কবজি কাটা আনোয়ার, গাঙচিল, লও ঠেলা, লাড়া দে, লাল বাহিনী, বিরিয়ানি সুমন, আকাশ গ্রুপ, দে ধাক্কা, কিলার আরমান, টুন্ডা বাবু, বোমা গ্রুপ, গিটঠা গ্রুপ, কসাই গ্রুপ, পাটালি গ্রুপ, সাব্বির গ্রুপ, কাইল্যা বাদল, চেতালেই ভেজাল, টক্কর লও, লেভেল হাই, আমি আলমগীর, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, ঘুটা দে, মাওড়া গ্রুপ, জেব্রা আকতার ও রক্তচোষা জনি গ্রুপ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকা থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সেই হিসেবে গত দুই বছরে এই অঞ্চল থেকে প্রায় ১২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় একাধিকবার গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধ দমনে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে। বছিলা এলাকার রিকশার গ্যারেজগুলোকে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়া জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে সাতটি প্রবেশপথে পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বছিলা ও এর আশপাশের এলাকায় অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরেনি।

এসএইচ 

Link copied!