• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

নেপালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে বাংলাদেশ


ক্রীড়া ডেস্ক জুন ১৭, ২০২৪, ০৯:৪০ এএম
নেপালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে বাংলাদেশ

ঢাকা : ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবিয়ান স্পিনার স্যামুয়েল বাদ্রি পিচ রিপোর্টে বললেন, উইকেট স্পিনারদের জন্য স্বর্গ। সেই উইকেটেই আগুন ঝরালেন তানজিম হাসান। গতি আর আগ্রাসসনের সঙ্গে নিখুঁত লাইন-লেংথ ও সুইংয়ের বিষ মিলিয়ে তিনি পুড়িয়ে দিলেন নেপালের টপ অর্ডার। ব্যাটসম্যানদের আরও একটি ব্যর্থতার দিনে তানজিম ও অন্য বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে ২১ রানে জিতে সুপার এইট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করার ম্যাচে ১০৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নেপালকে আটকে দেয় ৮৫ রানেই। দেশের ঈদুল আজহার আনন্দেও যোগ হয় বাড়তি খুশির উপলক্ষ।

চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে সুপার এইটে উঠল বাংলাদেশ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আগে কখনোই এক বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ জিততে পারেনি তারা!

সেন্ট ভিনসেন্টের অসমান বাউন্স ও টার্নিং উইকেটে সাকিব আল হাসানের ১৭ রান ছিল দলের সর্বোচ্চ। শেষ জুটি তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ১৮ রানও ছিল ম্যাচের প্রেক্ষাপটে মহামূল্য।

সেই পুঁজিকেই যথেষ্টরও বেশি প্রমাণ করে ছাড়ে বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে চার ওভারের টানা স্পেলে স্রেফ সাত রানে চার উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান তানজিম। চার ওভারে ঠিক সাত রান দিয়েই মুস্তাফিজের উইকেট তিনটি।

বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড স্পর্শ করেন দুজন।

ছোট পুঁজির পর বাংলাদেশের চাওয়া ছিল শুরুতে উইকেট। তৃতীয় ওভারেই দলকে জোড়া উইকেট এনে দেন তানজিম। বোলিং আর শরীরী ভাষা দিয়ে তিনি কাঁপিয়ে দেন নেপালকে। সেই ধাক্কা আর তারা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

নেপাল অধিনায়ক রোহিত পাউড়েলের সঙ্গে কথার লড়াইয়ের পর তাকেও বিদায় করেন তানজিম।

অধিনায়ক তাকে চতুর্থ ওভারেও আনেন বোলিংয়ে। সেই ওভারেও দলকে তিনি এনে দেন আরেকটি উইকেট।

তার চার ওভারে আসা সাত রানের মধ্যে চার রান আসে ইনিংসের প্রথম বলেই আসিফ শেখের ব্যাটের কানায় লেগে। তার ২৪ ডেলিভারির ২১টি থেকেই রান করতে নেপাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি রেকর্ড।

মুস্তাফিজ আক্রমণে আসার পর আরও চাপে পড়ে যায় নেপাল। ২৬ রানে ৫ উইকেট হারানো দলের হয়ে কিছুটা লড়াই করেন কুশাল মাল্লা ও দিপেন্দ্রা সিং ঐরি। ৫২ রানের জুটি গড়েন তারা।

তবে রান-বলের টানাপোড়ন বাড়ছিল। মুস্তাফিজের জন্য উইকেট ছিল আদর্শ। প্রত্যাশিতভাবেই শেষ দিকে নেপালের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন তিনি। থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যানই তার শিকার।

শেষ দিকে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন সাকিব।

শেষটা দারুণ হলেও বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান। বোলার সোম্পাল কামিকে ফিরতি ক্যাচই কেবল দিতে পারেন তিনি।

বিশ্বকাপের চার ম্যাচে তানজিদের মোট রান ৪৭।

লিটন কুমার দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট তো এখন প্রতিপক্ষের জন্য ধরাবাধাই। এ দিন পজিশন বদলেছিলেন দুজন। ওপেনিংয়ে ফেরেন লিটন, তিনে শান্ত। লাভ কিছু হয়নি। ১২ বলে ১০ করে বিদায় নেন লিটন, ৫ বলে ৪ রান করে শান্ত।

এই সংস্করণে লিটনের ফিফটি নেই ১৫ ইনিংস ধরে, শান্তর ১২ ইনিংস। এই বিশ্বকাপে চার ম‍্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়কের রান ৪৪ বল খেলে ২৬।

বাংলাদেশে বাজে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেপালের নতুন বলের দুই বোলার পেসার সোম্পাল কামি ও অফ স্পিনার দিপেন্দ্রা সিং ঐরিকেও কৃতিত্ব দিতে হবে দারুণ বোলিংয়ের জন্য।

উইকেটে স্পিন ধরছে দেখে নিজেকে আক্রমণে আনেন নেপাল অধিনায়ক রোহিত। অনিয়মিত এই স্পিনারের প্রথম ওভারেই সুইপ করার চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন তাওহিদ হৃদয়।

৩০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে।

দুই অভিজ্ঞ সাকিব আর হাসান ও মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা করেন প্রতিরোধ গড়ার। একটা জুটিও গড়ে উঠছিল। সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় আত্মঘাতী রান আউটে। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ১৩ রান করে, মাথা নিচু করে ক্রিজে বসে পড়েন সাকিব।

একটু পর সাকিব নিজেও আউট হন রোহিতের টার্নে পরাস্ত হয়ে। তার ১৭ রানই শেষ পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ রান হয়ে থাকে।

ধুঁকতে থাকা জাকের আলি (২৬ বলে ১২) ও তানজিম হাসানকে দুটি গুগলিতে বোল্ড করেন সান্দিপ লামিছানে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি ৫৪ ম্যাচ খেলে। ৫৩ ম্যাচে ১০০ ছুঁয়ে বিশ্বরেকর্ড রাশিদ খানের।

সপ্তদশ ওভারে কুশাল ভুর্তেলকে টানা দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে রান একটু বাড়ান রিশাদ হোসেন। ৭ বলে ১৩ করে তিনিও যখন বিদায় নিলেন, বাংলাদেশের রান তখন ৯ উইকেটে ৮৮।

শেষ জুটিতে তাসকিন ও মুস্তাফিজ দলকে একশ পার করিয়ে নিয়ে যান। ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর নিজেদের আসল কাজেও সফল বোলাররা। প্রথম ইনিংস শেষে সঙ্গী থাকা শঙ্কাগুলো তাই রূপ নেয় স্বস্তিতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৯.৩ ওভারে ১০৬ (তানজিদ ০, লিটন ১০, শান্ত ৪, সাকিব ১৭, হৃদয় ৯, মাহমুদউল্লাহ ১৩, জাকের ১২, তানজিম ৩, রিশাদ ১৩, তাসকিন ১২*, মুস্তাফিজ ৩; কামি ৩-০-১০-২, ঐরি ৩.৩-০-২২-২, রোহিত ৪-০-২০-২, লামিছানে ৪-১-১৭-২, ভুর্তেল ৪-০-২২-০, বোহারা ১-০-১০-০)

নেপাল: ৯.২ ওভারে ৮৫ (ভুর্তেল ৪, আসিফ ১৭, ০, রোহিত ১, সান্দিপ জোরা ১, মাল্লা ২৭, দিপেন্দ্রা ২৫, গুলশান ০, কামি ০, লামিছানে ০*, বোহারা ০; তানজিম ৪-২-৭-৪, তাসকিন ৪-০-২৯-১, মুস্তাফিজ ৪-১-৭-৩, রিশাদ ৩-০-১৫-০, সাকিব ২.২-০-৯-২, মাহমুদউল্লাহ ২-০-৫-০)।

ফল: বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিম হাসান।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!