কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল আর ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচটিতে একাধিক রেকর্ডও গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে গেছেন তিনি। একই সঙ্গে চলতি আসরে ৬ গোল করে গোলদাতার তালিকায়ও মেসির পাশে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফ্রান্সের হাতে। বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে সুইডেনকে কার্যত চাপে রেখেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট, অফসাইড এবং পোস্টে বল লাগায় প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় গোলের দেখা পায়নি তারা।
২০তম মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৩২তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। চার মিনিট পর ওলিসের দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকও পোস্টে আঘাত হানে, ফিরতি বলে উসমান দেম্বেলের শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অপেক্ষার অবসান হয়। ৪৫তম মিনিটে দেম্বেলের পাস থেকে শক্তিশালী শটে সুইডেনের জালে বল জড়িয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৭তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
এরপর ৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। ওলিসের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন তিনি। এর ফলে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা লিওনেল মেসির (১৯) থেকে মাত্র এক গোল দূরে চলে এলেন ফরাসি অধিনায়ক। পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে আসেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে আরেকটি রেকর্ডও নিজের করে নেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাস ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন।
৮৫তম মিনিটে জোড়া গোল করার পর এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশম। তার বদলে মাঠে নামেন জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জোড়া গোল করলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা, যদিও হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা এবারও শেষ হলো না।
এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আড়ালে পড়ে গেলেও অসাধারণ ম্যাচ খেলেছেন মাইকেল ওলিসে। বারকোলা ও এমবাপ্পের দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৫-এ নিয়ে যান তিনি। এর মাধ্যমে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।
এম


-6a312559f1cb9-20260701155224.jpg)




































