• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ভূমিকম্পে অত্যধিক ঝুঁকিতে দেশের যেসব এলাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ভূমিকম্পে অত্যধিক ঝুঁকিতে দেশের যেসব এলাকা

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ফেব্রুয়ারির ২৭ দিনে দেশবাসী অনুভব করেছে ১০টি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। গতকালের দুই দফা কম্পন আলাদা করে ধরলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১১। সর্বশেষ গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরায় সৃষ্ট কম্পন রাজধানী ঢাকা হয়ে পূর্বে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪, যা মাঝারি মাত্রার।

মাসের শুরু থেকেই একের পর এক কম্পন টের পাওয়া যাচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ; সেদিন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়। একই সময়ে মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের সিকিমে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারির ৫ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১০, আর গতকালের দুই দফা ধরলে ১১।

এর আগে গত নভেম্বরে ঘন ঘন ভূমিকম্পে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের অধিকাংশ এলাকা কেঁপে ওঠে। এতে নিহত হন ১০ জন, আহত হন ছয় শতাধিক। পরদিন আরও তিনটি ভূমিকম্প হয়। পরবর্তী কয়েক দিন একের পর এক কম্পনে উদ্বেগ বাড়ে। তখন বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, ফলে এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা অঞ্চল তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকাকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে ধরা হলেও ঘনবসতি ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ছোট ছোট অজ্ঞাত ফল্ট লাইন চিহ্নিত করা জরুরি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানী ও চট্টগ্রাম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নগরী। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার যৌথ জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অন্তত ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে প্রায় ৭ কোটি টন কংক্রিটের স্তূপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!