• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

হরমুজে ইরানের অবরোধে উপসাগরে আটকা ২১৯০ নৌযান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
হরমুজে ইরানের অবরোধে উপসাগরে আটকা ২১৯০ নৌযান

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় আরব উপসাগরে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক নৌযান আটকা পড়েছে।

এসব নৌযানের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারও আছে বলে সমুদ্রে যান চলাচল বিষয়ক সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আরব নিউজ।

ইরানের বাধায় বিশ্বে তেল-গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে খুবই সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে, বলেছে রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

আটকা পড়া নৌযানগুলোর মধ্যে বিশাল আকারের ১২টি গ্যাসবাহী ও ৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার আছে।

মঙ্গল ও বুধবার কেবল ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছে সমুদ্রে যান চলাচলের খোঁজখবর রাখা প্রতিষ্ঠান কেপলার।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি মতো নৌযান চলাচল করতো।

যেসব নৌযান হরমুজ পার হয়েছে সেগুলো ইরানের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে তাদের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি নৌযান এ পথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েড’স লিস্ট। ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন জাহাজ, কিংবা যেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজকে ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর করার পর তেহরান বিশ্বের তেল-গ্যাসের অন্তত এক পঞ্চমাংশ সরবরাহের পথ হরমুজ আটকে দেয়। কিছু কিছু জাহাজ মালিককে ওই সঙ্কীর্ণ জলসীমা দিয়ে নৌযান বের করতে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে ইরান মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধু দেশগুলোর’ ক্ষেত্রে এ ফি না নেওয়ারও আভাস দিয়ে রেখেছে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির মালিকানাধীন একাধিক ট্যাংকার হরমুজ পাড়ির ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে তেহরান কুয়ালা লামপুরকে আশ্বস্ত করে বলেছে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে তারা মালয়েশিয়ার কোনো নৌযান থেকে ফি নেবে না।

তবে ছাড়পত্রের অপেক্ষা ও নোঙর করে রাখা বিপুল সংখ্যক নৌযানের কারণে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোর হরমুজ পার হওয়ায় দেরি হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্কও করেছেন।

চীন জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি নৌযান সম্প্রতি হরমুজ পার হয়েছে। সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল ভারতে নিয়ে যাওয়া একটি গ্রিস-পরিচালিত ট্যাংকার ও একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী এলএনজি ক্যারিয়ারকেও হরমুজ পার হতে দিয়েছে ইরান।

তেহরানের ছাড়পত্র পাওয়ার পরও মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে নৌযানগুলোকে রাতে যাত্রা বা শনাক্তকারী ডিভাইস অকার্যকর করে রাখার মতো ব্যবস্থা নিতে হয়।

এদিকে সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় বড় উৎপাদকদের জ্বালানি রপ্তানিও কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এ কারণেও কয়েকশ নৌযান ও আনুমানিক ২০ হাজারের মতো নাবিক উপসাগরীয় এলাকা ও এর আশপাশে আটকা পড়েছেন।

হরমুজ পাড়ি দেওয়া পাকিস্তানের একটি নৌযান বুধবার তেল নিয়ে তাদের দক্ষিণের বন্দর করাচিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ। অন্যপথে আরেকটি নৌযানও বন্দরে পৌঁছেছে। আসছে সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু চালান পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশ্বস্তও করেছেন।

অবরুদ্ধ হরমুজ খুলতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। যুক্তরাজ্য হরমুজে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিতের পথ বের করতে প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি চেয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হরমুজে অবরোধ তোলাসহ ইরান যদি তার সব দাবি না মানে তাহলে ওয়াশিংটন ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করবে।

এসআই

Wordbridge School
Link copied!