• ঢাকা
  • বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শেবাচিমে আগুনের সময় দুই রোগীর মৃত্যু, অক্সিজেন সংকটের অভিযোগ


বরিশাল প্রতিনিধি   মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:১১ এএম
শেবাচিমে আগুনের সময় দুই রোগীর মৃত্যু, অক্সিজেন সংকটের অভিযোগ

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মেডিসিন ভবন, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন রোগী ও স্বজনরা। এ ঘটনায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও তিন আনসার সদস্য।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোর রুমে ফোমের গোডাউন আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পাশের ওয়ার্ডগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহতরা হলেন-বরিশাল নগরের বারোইঝার হাট এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫) এবং পটুয়াখালী সদরের কাজী আতাউর রহমান। আবুল হোসেন স্ট্রোকজনিত কারণে গত ১৩ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আগুনের সময় পাশের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা দুই রোগী আতঙ্ক ও অক্সিজেন সংকটে মারা যান।

নিহত কাজী আতাউর রহমানের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তার জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বারবার অনুরোধ করা হলেও সময়মতো তা পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগ ঘিরে হাসপাতালজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তিন আনসার সদস্য। তারা হলেন- রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান জানান, প্রথমে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখা দেখা গেলে রোগীদের নিয়ে স্বজনরা দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। কেউ কোলে, কেউ হুইলচেয়ারে করে অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নেন। এতে পুরো হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

একজন স্বজন আল আমিন বলেন, চারদিকে ধোঁয়া আর চিৎকার মনে হচ্ছিল বড় কিছু হয়ে গেছে। কীভাবে রোগী নিয়ে বের হয়েছি, সেটাই বুঝতে পারিনি।

এ বিষয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১২টা মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মানিকুজ্জামান বলেন, দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে, তবে তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনে স্টোর রুমে থাকা ফোম ও পুরাতন চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!