• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে হুঁশিয়ারি বার্তা শফিকুর রহমানের


রাজশাহী প্রতিনিধি মে ১৬, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে হুঁশিয়ারি বার্তা শফিকুর রহমানের

ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: রাজশাহীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ থেকে সরকার ও বিএনপির প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “জাতির সঙ্গে গাদ্দারি-বেইমানি করবেন না। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না।”

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যথায় অতীতের চেয়েও ভয়াবহ স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে।” তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরও ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়নি, বরং তরুণ-তরুণীদের নেতৃত্বে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কারণেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

সরকারি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যাদের আন্দোলনের কারণে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, আজ তাদেরই উপহাস করা হচ্ছে। জনগণ এর জবাব একদিন ঠিকই দেবে।”

সংসদে বিরোধী মত প্রকাশে বাধা দেওয়া হলে রাজপথেই জনগণের পার্লামেন্ট গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “সংসদে কথা বলতে না দিলে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব, যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতি লাগে না।”

জামায়াতে ইসলামীকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দলের নেতাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “যাদের নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে পারেন, তাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।”

ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশেও বার্তা দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চাই। তবে বাংলাদেশের দিকে চোখ রাঙানো বা হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এটি তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ ও শাহ মখদুমের বাংলাদেশ।”

এ সময় পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর উত্তরাঞ্চলের বিশাল এলাকা মরুকরণের মুখে পড়েছে। পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন কেবল লোক দেখানো না হয়, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম এবং মনিরা শারমিনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

পিএস

Link copied!