• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

কয়েক’শ গাছ কাটার বিষয়ে প্রকৌশলী ‘এত কিছু দেখলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে’


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মে ২৬, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
কয়েক’শ গাছ কাটার বিষয়ে প্রকৌশলী  ‘এত কিছু দেখলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে’

ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর থেকে খিরাম ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। পুরো সড়কজুড়ে চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে সড়কের দু’পাশে থাকা প্রায় তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা পড়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে সড়কের পাশের গাছ কেটে নেওয়ার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছে খোদ এলজিইডি অফিস। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, “এত কিছু দেখলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।” সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য এত গাছ কর্তনের ঘটনা দেখে অবাক স্থানীয়রাও।

সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নানুপুর-খিরাম সড়ক-এর দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা সারিবদ্ধ গাছের অধিকাংশই কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে গাছের গোড়া, আবার কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাটা ডালপালার চিহ্ন। কেটে নেওয়া গাছগুলো টুকরো টুকরো করে স্থানীয় আলমগীর কন্ট্রাক্টর নামে এক ব্যক্তির স-মিলে সারিবদ্ধভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের সুযোগে পরিকল্পিতভাবেই গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নের জন্য সড়ক প্রশস্তকরণ প্রয়োজন হলেও এভাবে বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় এসব গাছ পথচারীদের ছায়া ও স্বস্তি দিত বলেও জানান তারা।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের দু’পাশের গাছগুলো গত কয়েকদিন ধরে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কর্তন করছেন স্থানীয় আলমগীর কন্ট্রাক্টর নামে এক স-মিল মালিক। তবে তিনি কী মূল্যে গাছগুলো কাটছেন, তা জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি তাঁর মালিকানাধীন স-মিলেও গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার হয়। প্রশস্তকরণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স ডেল্টা কর্পোরেশন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছাপা ভুট্টু বলেন, “সড়কের পাশের গাছ কাটতে দেখেছি। আমরা জেনেছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, “সরকারি সড়কের একটি গাছ কাটতেও অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এসব বিষয় নিয়ে এত কিছু দেখতে গেলে সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা গাছের স্ব স্ব মালিকপক্ষকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “সরকারি সড়কের পাশে যে কেউ গাছ লাগাতে পারেন, কিন্তু ইচ্ছামতো গাছ কর্তন করতে পারেন না। কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে নিলামে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।”

পিএস

Link copied!