ছবি: প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ পোশাকের স্টক লট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
আজ সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানুর রহমানের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সিদ্দিক ভেন্ডার গ্রামে। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় পোশাকের স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং স্থানীয় একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিকসার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মিজানুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশই দগ্ধ হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট এলাকার আলীমের ভাড়া বাড়িতে নিজের কক্ষে দুটি মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন মিজানুর। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে ঘরের ভেতর মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দুটি মোবাইল ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটলে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা ওভারহিটিংয়ের কারণে অনেক সময় মোবাইল ফোন কিংবা চার্জারে এ ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার না করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।
এসএইচ







































