ছবি: প্রতিনিধি
পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক তরুণ। ছোট ছোট গ্রামীণ দোকান, বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনার বাস্তবধর্মী মডেল বা ‘মিনি আর্ট’ তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করছেন তিনি। সেই আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করছেন।
উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. কাওছার আলী বর্তমানে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি মিনি আর্ট তৈরির কাজ শুরু করেন।
কাওছার আলী জানান, শুরুতে তার কাজের তেমন পরিচিতি ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তৈরি শিল্পকর্মের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার আসতে শুরু করে। বর্তমানে তিনি প্রতিটি মিনি আর্ট ৩৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। এতে মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই কাজটি শুরু করেছিলাম। পরে পরিবারের কথা ভেবে এটিকে পেশায় পরিণত করার চেষ্টা করি। এখন নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছুটা সহযোগিতা করতে পারছি। ভবিষ্যতে এই কাজকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’
তার তৈরি মিনি আর্টে গ্রামবাংলার চিরচেনা চিত্র ফুটে ওঠে। চায়ের দোকান, মুদি দোকান, টিনের ঘর, গ্রামের পরিবেশসহ নানা স্থাপনার ক্ষুদ্রাকৃতির বাস্তবধর্মী মডেল তৈরি করেন তিনি। প্রতিটি শিল্পকর্ম তৈরি করতে কয়েক দিন সময় লাগে। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নিখুঁত নকশার কারণে ক্রেতাদের কাছে তার তৈরি মিনি আর্টের চাহিদাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, কাওছারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা থাকলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। তার সাফল্য এলাকার অনেক তরুণকে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করছে।
ছোট্ট একটি স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলায় এখন বড় স্বপ্ন দেখছেন কাওছার আলী। তার প্রত্যাশা, একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের মিনি আর্টের পরিচিতি তুলে ধরবেন।
এসএইচ














-20260725114857.jpg)










-20260722160634.jpg)













