• ঢাকা
  • সোমবার, ১১ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মার্কেন্টাইলের বীমা দাবি পরিশোধ সক্ষমতায় আইডিআরএ’র শঙ্কা


আবদুল হাকিম মে ১০, ২০২৩, ০৩:৪৪ পিএম
মার্কেন্টাইলের বীমা দাবি পরিশোধ সক্ষমতায় আইডিআরএ’র শঙ্কা

ঢাকা: মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ভবিষ্যতে বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। 

জীবন বীমা কোম্পানিটি মাত্রাতিরিক্ত কমিশন ও প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হতে পারে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছর আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক হারুন-অর-রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান এবং মুহাম্মদ শামছুল আলমকে সদস্য করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বীমা দাবি পরিশোধে ভবিষ্যতে সফল নাও হতে পারে এবং নবায়ন প্রিমিয়ামের হার কমসহ বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নবায়ন প্রিমিয়ামের হার কম হওয়া ও পলিসি তামাদির হার উচ্চ হওয়ায় বীমা আইন ২০১০ এর বিধান মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির অভিযাগের বিবরণ, কোম্পানির বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য, প্রমাণ পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয় যে, কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি স্থিতিশীল, তবে সন্তোষজনক নয়। কোম্পানিটি প্রতি বছরই তাদের কোম্পানির স্বল্প সংখ্যক পলিসি গ্রাহকদের দাবি (এসবি) পরিশোধ করত সক্ষম হচ্ছে। কোম্পানি ২০১৭ সালে নতুন ইস্যুকৃত ও পুনরায় সচল পলিসির সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৩৬টি, তামাদি হয়েছে ৩ হাজার ৭০৮টি অর্থাৎ ৯৯.০০ শতাংশ পলিসি তামাদি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে তামাদি পলিসির হার হ্রাস পেতে শুরু করে এবং ২০২০ সালে ৩৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২১ সালে এ হার পুনরায় বেড়ে যায়, অর্থাৎ ৬৭ শতাংশে উন্নীত হয়। পলিসি তামাদি হওয়া থেকে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত বের হতে পারেনি।

বীমা দাবি পরিশোধ: স্বল্প সংখ্যক বীমা দাবি পরিশোধের হার (গড়ে প্রতি বছর ১০০ শতাংশ)। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে উত্থাপিত বীমা দাবি বাবদ ০.১৩ কোটি টাকার মধ্যে ০.১৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার ১০০ শতাংশ। সে ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি প্রতি বছর ১০০ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে আসছে। ২০২১ সালেও এ হার অব্যাহত ছিল, যা টাকার অংকে ২.২৫ কোটি টাকা।

গ্রস প্রিমিয়াম বৃদ্ধি: কোম্পানির বর্তমান গ্রস প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার ৪৪.১৯ শতাংশ। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে গ্রস প্রিমিয়াম আদায় হয়েছে ১০.২৩ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে ৮.৩০ শতাংশ বেড়ে ১১.০৭ কোটি টাকা হয়েছে। ২০১৮ সাল হতে হঠাৎ ৫৫.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১৭.১৮ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২০ সালে ১০৭.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫.৭৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ৫.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে প্রিমিয়াম ৩৭.৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গড়ে প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪.১৯ শতাংশ।

সম্পদ ও বিনিয়োগ: সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার (গড়ে প্রতি বছর ২০.৯৮ শতাংশ ও ২৬.৮৬ শতাংশ)। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০২১ সাল পর্যন্ত কোম্পানির সর্বমোট সম্পদের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৫২.৪৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে সম্পদ ছিল ২০.৮২ কোটি টাকা। গড়ে প্রতি বছর কোম্পানির সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ২০.৯৮ শতাংশ। কোম্পানি ২০১৭ সালে বিনিয়োগ করেছে প্রায় ১৫.৭৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪৭.৪৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি বছর বিনিয়োগ বেড়েছে ২৬.৮৬ শতাংশ। এ সকল বিনিয়োগ হতে রিটার্ন এসেছে গড়ে ৬.৫৯ শতাংশ। কোম্পানির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ২০১৭ সালে ছিল, ০.২৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালে লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৩১.১০ কোটি টাকা।

ব্যবস্থাপনা ব্যয় : কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ৩.৩২ কোটি টাকা অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় সীমার অতিরিক্ত ৪৩.১৮ শতাংশ ব্যয় করেছে। ২০১৮ সালে এ ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পায়, ৭.৯০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় করে কোম্পানিটি। ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যা কোম্পানির জন্য ইতিবাচক। ২০২১ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে অনুমোদিত সীমার নিচে। অর্থাৎ ০.৮৯ শতাংশ। ২০১৭ সাল হতে ২০২১ পর্যন্ত কোম্পানিটি মোট ব্যয় করেছে ৮৩.৩৮ কোটি টাকা। অনুমোদিত সীমা ছিল ৭৭.৯৪ কোটি টাকা,  অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৫.৪৪ কোটি টাকা অর্থাৎ ২৩.৬৯ শতাংশ অতিরিক্ত। সবমিলিয়ে গড়ে পাঁচ বছরে কোম্পানিটি ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ অনুমোদিত সীমার প্রায় ৬.৭৮ শতাংশ বেশি খরচ করেছে। কোম্পানিটি ১০০ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে গড়ে ৭৯.৪০ টাকা ব্যয় করেছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুমোদিত সীমার নিচে আসায় কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এ অবস্থা আরো শক্তিশালী হতে পারত।

২য় বর্ষ প্রিমিয়াম নবায়ন হার (গড়ে প্রতি বছর ৩৮-২১ শতাংশ) কম। অর্থাৎ কোম্পানির ইস্যুকৃত লেপস পলিসিগুলো টার্গেট পূরণের জন্যই হয়েছে। এতে কোম্পানিটি ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে বীমা দাবি পরিশোধে সম্পূর্ণ সফলতা নাও পেতে পারে। কোম্পানিটি  প্রতিষ্ঠার ৫ (পাঁচ) বছর পরেও শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে না পেরে কোম্পানি অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বীমা দাবি পরিশোধ সক্ষমতার বিষয়ে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল আমিন সোনালী নিউজকে বলেন, আইডিআরএ’র প্রতিবেদনে উঠে আসা ভবিষ্যতে আমাদের কোম্পানির বীমা দাবি পরিশোধে সফল নাও হতে পারে বলেছে। এই বিষয়ে আইডিআরএকে আমরা অবগত করেছি যে আমরা এখন পর্যন্ত ১০০% বীমা দাবি পরিশোধ করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রায় ৫৮% লিক্যুইট ইনভেস্টর রেডি রাখছি। গ্রাহকের জন্য আমাদের লাইফ ফান্ড লাগে ৪৮ কোটি টাকা কিন্তু আমাদের ৫৮ কোটি টাকা শুধু ক্যাশই আছে। সুতারাং এই বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার মতো কোন বিষয়ই নেই বলে পরিস্কারভাবে আমরা তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি, এবং এই ব্যাখ্যা আইডিআরএ সন্তোষজনকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে পরবর্তীতে তারা আর কোন নির্দেশনা বা কোন বিষয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কিছু বলেনি।

তিনি আরও বলেন, নবায়ন প্রিমিয়ামের হার কম যেটা বলা হয়েছে, এখানে আমাদের ৫৫ শতাংশ উঠে এসেছে। এটা অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে অনেক কম থাকে কিন্তু আমাদের সেটা ভালো পজিশনে আছে। তবুও আমরা যাতে এটা ৭০ শতাংশে আসতে পারি সেটা নিয়ে কাজ করছি।

সোনালীনিউজ/এএইচ/আইএ

Link copied!