• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইকুইটির গণ্ডি পেরিয়ে কমোডিটি ডেরিভেটিভে নজর


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ইকুইটির গণ্ডি পেরিয়ে কমোডিটি ডেরিভেটিভে নজর

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ারনির্ভর কাঠামো থেকে বের করে আনতে কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর উদ্যোগ জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। রবিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) ও সিএসই’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নতুন পণ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আধুনিক কাঠামো তৈরিতে এটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

সিএমজেএফ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ জানান, ২০২৫ সালে সিএসই’র কমোডিটি ডেরিভেটিভস প্রবিধান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষ। এখন এক্সচেঞ্জের প্রস্তুতি, পণ্য নির্বাচন ও অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত হলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান তিন স্তম্ভের মধ্যে বন্ড মার্কেটে অগ্রগতি হলেও বাজারটি এখনো মূলত ইকুইটিনির্ভর রয়ে গেছে। ডেরিভেটিভ মার্কেটের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দামের ধারণা তৈরি এবং মূল্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান জানান, কমোডিটি ডেরিভেটিভস সেগমেন্ট চালুর জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের মধ্যেই এই সেগমেন্টটি অপারেশনাল করা সম্ভব হবে।

সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশের এক্সচেঞ্জ প্রযুক্তি এখনো অনেকটা বিদেশি নির্ভর হওয়ায় সময় ও ব্যয় বাড়ছে। দেড় বছর আগে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হলেও আইনগত ও সমন্বয়গত সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তবায়ন পিছিয়ে গেছে। নতুন এই বাজার তৈরির জন্য দক্ষ ব্রোকার, ট্রেডার এবং পৃথক আইনগত কাঠামোর কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে তুলনামূলক সহজ কিছু পণ্যে ক্যাশ সেটেলড ফিউচারস ট্রেড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে চাল ও গমসহ প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যকেও এর আওতায় আনা হবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান আস্থাহীনতা ও তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে কমোডিটি ডেরিভেটিভস নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর সাফল্যের জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি আহসান হাবীব। বিএসইসি কমিশনার নতুন এই বাজার নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এসএইচ 

Link copied!