• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ব্যাংক খাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি

দেউলিয়া ১২ ব্যাংক, ১৫ ব্যাংক অতিমাত্রায় দুর্বল


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫, ০৩:৫৩ পিএম
দেউলিয়া ১২ ব্যাংক, ১৫ ব্যাংক অতিমাত্রায় দুর্বল

ছবি : প্রতীকী

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। বহু ব্যাংকে জমা রাখা গচ্ছিত অর্থ তুলতে পারছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক কার্যত নামেমাত্র টিকে আছে। বর্তমানে দেউলিয়ার পর্যায়ে আছে ১২টি ব্যাংক, আর অতিমাত্রায় দুর্বল অবস্থায় আছে আরও ১৫টি ব্যাংক।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে এক সেমিনারে বক্তারা এসব শঙ্কার কথা জানান।

সেমিনারের আয়োজন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএপি) ও জার্মানির ওটিএইচ অ্যামবার্গ ওয়েইডেন যৌথভাবে। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে ব্যাংকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধের খসড়া গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন মাহমুদ ওসমান ইমাম।

বক্তারা উল্লেখ করেন, দখল ও লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট আরও বাড়বে।

বক্তারা আরও জানান, লুটপাটের কারণে ১২টি ব্যাংক কার্যত দেউলিয়া পর্যায়ে চলে গেছে, যা তাদের জন্য আমানতকারীদের টাকা প্রদান করাও কঠিন করে তুলেছে। ১৫টি ব্যাংক অতিমাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যাংকে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, এবং ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, এস আলম একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করেছেন, আর তার সহযোগীরা আরও ক্ষতি করেছেন। ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরও অনেক সময় লাগবে। ব্যাংক খাতে সংস্কারের পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ধারাবাহিকতার অভাবে সংস্কার বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা আরও অবনতিতে গেছে।

সেমিনারে আরও বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ব্যাংক খাত পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং লুটপাটের টাকা বেশির ভাগই পাচার হয়ে গেছে। যার ফলে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট আরও বাড়ছে এবং এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে।

এসএইচ

Link copied!